জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় সংসদে শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালামকে এই কমিটির সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকারের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন ও তা অনুমোদিত হয়।
সংসদের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী, সরকারের নীতি নির্ধারণী ও তদারকি কাজে গতিশীলতা আনয়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এই সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটিতে সরকারের মন্ত্রীসহ দশজন সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দেশের শিল্প খাতের উন্নয়ন ও আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ ছাড়া সংসদ সদস্যবৃন্দের মধ্য থেকে সদস্য হিসেবে রয়েছেন শেখ মো. আব্দুল্লাহ (মুন্সিগঞ্জ-১), কাজী রফিকুল ইসলাম (বগুড়া-১), বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (নড়াইল-১), মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (নারায়ণগঞ্জ-১), খায়রুল কবির খোকন (নরসিংদী-১), কেরামত আলী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১), আল ফারুক আব্দুল লতীফ (নীলফামারী-২) এবং মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১)। সংসদীয় এই কমিটিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা কমিটির কার্যকারিতা ও বহুত্ববাদী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো দেশের শাসনব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির মূল দায়িত্ব হলো মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা, বিল বা আইন প্রণয়নের প্রস্তাবগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং দেশের শিল্পোন্নয়নে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে শিল্প খাতের আধুনিকায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলীয় একজন জ্যেষ্ঠ ও বিষয়ভিত্তিক সম্পাদককে কমিটির সভাপতি করার বিষয়টি সংসদের গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও সুসংহত করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি আবুল কালাম ইতিপূর্বে শিল্প খাতের বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতা শিল্প মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) থেকে শুরু করে ভারী শিল্পের বিকাশে সংসদীয় নজরদারি বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সাথে বাণিজ্য মন্ত্রীর এই কমিটিতে উপস্থিতি শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় সাধন করবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
আগামী দিনগুলোতে এই কমিটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম খতিয়ে দেখা, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করার সুপারিশ প্রদান এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের নীতি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে। সংসদের আগামী কার্যদিবসগুলো থেকেই এই কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কর্যক্রম শুরু করবে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।


