অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমল মূল্যবান ধাতু সোনার দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) মূল্য হ্রাস পাওয়ার পরিপ্রক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম দেশব্যাপী কার্যকর হয়েছে।
এর আগে আজ সকালে বাজুসের ‘স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং’ এক সভায় মিলিত হয়ে দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত নেয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী সোনা বিক্রি করতে হবে।
বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে যে, স্বর্ণালঙ্কারের ডিজাইন বা নকশা অনুযায়ী আগের নিয়মেই মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সাথে প্রয়োজনীয় ভ্যাট যুক্ত করেই এই চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে শোরুমগুলো আলাদা করে কোনো ভ্যাট আদায় করতে পারবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার পরিবর্তন (এক্সচেঞ্জ) এবং জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পুনরায় বিক্রির (পারচেজ) ক্ষেত্রে বাজুস নির্ধারিত পূর্বের নিয়ম ও নীতিমালাই বহাল থাকবে।
এর আগে, মাত্র একদিন আগে গত ১৩ জুলাই সকালে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি ভরিতে চার হাজার টাকারও বেশি দাম কমায় বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং স্থানীয় বাজারে পাকা সোনার সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাজুস নিয়মিত এই দাম নির্ধারণ করে থাকে। সোনার দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেশের সাধারণ ক্রেতা এবং বিয়ে বা উৎসবের কেনাকাটার ক্ষেত্রে স্বস্তি দেবে। তবে বাজারে এই ধারাবাহিকতা কতদিন বজায় থাকে, তা মূলত নির্ভর করবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটের স্থিতিশীলতার ওপর।


