চলতি বছরের ফিরতি হজ ফ্লাইট শেষের পথে: দেশে ফিরেছেন ৭৭ হাজার হাজি, প্রাণহানি ৫৫

চলতি বছরের ফিরতি হজ ফ্লাইট শেষের পথে: দেশে ফিরেছেন ৭৭ হাজার হাজি, প্রাণহানি ৫৫

জাতীয় ডেস্ক

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশি হাজিদের ফিরতি কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। সর্বশেষ প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, মোট ২১১টি ফিরতি ফ্লাইটে এ পর্যন্ত ৭৭ হাজারের বেশি হাজি নিরাপদে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন। তবে চলতি বছর হজ পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন রোগে ও বার্ধক্যজনিত কারণে ৫৫ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ বুলেটিন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রকাশিত সর্বশেষ হজ বুলেটিনের তথ্যানুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সৌদি আরব থেকে মোট ২১১টি ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ৭৭ হাজার ৬৯ জন বাংলাদেশি হাজি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে ৪ হাজার ৪৫৯ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৬১০ জন হাজি রয়েছেন। আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে অবশিষ্ট হাজিদের ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে এবারের হজ ব্যবস্থাপনার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।

চলতি বছর হজের আনুষ্ঠানিকতা ও তীব্র গরমের মধ্যে দায়িত্ব পালনকালে মোট ৫৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক মারা গেছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, পবিত্র মক্কা নগরীতে সর্বোচ্চ ৩৭ জন, মদিনায় ১৭ জন এবং জেদ্দায় ১ জন মৃত্যুবরণ করেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, হজের অন্যতম প্রধান ও কঠিন দুটি স্থান মিনা ও মুজদালিফায় এবার কোনো বাংলাদেশি হাজির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, সৌদি আরবেই তাঁদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

ফ্লাইট পরিচালনার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এককভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করেছে। সংস্থাটি ১১১টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ৩৪ হাজার ১২২ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এছাড়া সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া এয়ারলাইনস ৭০টি ফ্লাইটে ২৫ হাজার ৩৭৭ জন এবং দেশটির অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইটে ১১ হাজার ৪৩ জন হাজিকে বাংলাদেশে পৌঁছে দিয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য এয়ারলাইনসের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় আরও ৬ হাজার ৫২৭ জন হাজি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

হজযাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তায় সৌদি আরবে নিয়োজিত বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্র ও আইটি ডেস্কের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। বুলেটিনের তথ্যমতে, সৌদির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি, যাদের মধ্যে বর্তমানে ৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ হজ মিশনের অধীনস্থ মেডিক্যাল সেন্টারগুলো থেকে ৬৭ হাজার ১৪০ জন হাজিকে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি পথ হারানো বা প্রয়োজনীয় তথ্যের অনুসন্ধানে মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ৪৫২ জন হাজিকে সরাসরি তথ্যগত সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সেবা দিয়েছে।

চলতি বছরের সামগ্রিক হজ কার্যক্রমের পটভূমি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে প্রথম প্রাক-হজ ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে। মাসব্যাপী এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২১ মে শেষ প্রাক-হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয়। ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর, ৩০ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছিল।

উল্লেখ্য, এবার বাংলাদেশের জন্য মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ করেছিল সৌদি সরকার। যার বিপরীতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জনসহ নিবন্ধিত প্রায় সব হজযাত্রীই সুষ্ঠুভাবে হজ পালনের সুযোগ পেয়েছেন। সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক যোগাযোগের কারণে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ফ্লাইট বিপর্যয় কিংবা বড় ধরনের কোনো অব্যবস্থাপনা ছাড়াই ফিরতি হজ কার্যক্রম সফলতার সাথে সম্পন্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ