বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য টেকসই করতে ভারসাম্য আনা জরুরি: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য টেকসই করতে ভারসাম্য আনা জরুরি: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই করতে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ভারসাম্য আনা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সম্প্রতি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়, প্রতিরক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতের নানা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনাকালে তিনি এ কথা জানান।

রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাণিজ্যনীতির মূল ভিত্তি হলো মুক্ত, ন্যায্য ও পারস্পরিক বাণিজ্য। বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর তৈরি পোশাক রপ্তানি করলেও সে তুলনায় সেখান থেকে পণ্য আমদানি করে খুবই কম। একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের নিয়ম হলো, যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করবে, তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও পণ্য কিনতে হবে। বিশ্বের সব দেশ যদি শুধু যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করে কিন্তু নিজেরা কিছু না কেনে, তবে তা দীর্ঘ মেয়াদে কোনো পক্ষের জন্যই টেকসই হবে না।

এই বাণিজ্যিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং সম্পর্ক আরো জোরদার করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’তে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ যেমন আকর্ষণীয় শুল্ক সুবিধা পাবে, তেমনই এর শর্ত মেনে দেশের কাস্টমসব্যবস্থা, শ্রম খাত ও সামগ্রিক বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে। এই সংস্কারগুলো বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত জরুরি ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য ঠিক করতে বাংলাদেশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে মানসম্মত গম ও কৃষিপণ্য ক্রয় করছে। মার্কিন গমে অপচয় মাত্র ২ শতাংশ, যেখানে অন্যান্য দেশ থেকে আনা গমের প্রায় ২০ শতাংশ নষ্ট হতো। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বহর বাড়াতে ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ভবিষ্যতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী, তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের দেওয়া শর্তগুলো ব্যাবসায়িকভাবে লাভজনক হতে হবে।

বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করেন বা ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা নেন। ফলে জাল কাগজপত্র এবং অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ যেন বিশ্বের সেরা সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য রক্ষায়, বিশেষ করে যক্ষ্মা ও হামের মতো রোগ মোকাবেলায় মার্কিন সহায়তা চালু রয়েছে। খুব শিগগিরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ৫ বছরের একটি নতুন স্বাস্থ্য সহযোগিতা চুক্তি সই হবে।

আসছে জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠান চলবে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে ২৫০টি রিকশাকে মার্কিন পতাকার লাল, সাদা ও নীল রঙে সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও স্বাধীনতার কাহিনী তুলে ধরার জন্য ‘ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ নামক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের দল নকআউট পর্বে ওঠায় বাংলাদেশের ক্রীড়ামোদীদের মার্কিন দলকে সমর্থন করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ