বেসরকারি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১০ম স্তরে উন্নীত

বেসরকারি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১০ম স্তরে উন্নীত

জাতীয় ডেস্ক

দেশের বেসরকারি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদের বেতন স্কেল ও গ্রেড পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ এর আলোকে ইতিপূর্বে ১১তম গ্রেডে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা এখন থেকে ১০ম গ্রেডে বেতন-ভাতা লাভ করবেন। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের একটি প্রশাসনিক ও আর্থিক বৈষম্যের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত সোমবার (২৯ জুন) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ শাখার পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে নতুন বেতন গ্রেড কার্যকরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনামতে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর সুপারিশের ভিত্তিতে যারা সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে ১১ কোডে যোগদান করেছিলেন এবং বর্তমানে এমপিওভুক্ত রয়েছেন, তারা ১০ কোডে বেতন প্রাপ্তির যোগ্য হবেন। এই সুবিধা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাপনার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘মেমিস’ (MEMIS) সফটওয়্যারের নির্ধারিত ‘পুনঃনিয়োগ’ অপশন ব্যবহার করে আবেদন করতে হবে।

এর আগে গত ৯ জুন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রের মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বেতন স্কেলের সংশোধনী আনা হয়। ওই সংশোধনীর ধারাবাহিকতাতেই এই নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হলো।

সংশোধিত পরিপত্রের শর্তানুযায়ী, শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে বেতন স্কেলের এই রূপান্তর নির্ধারিত হবে। স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি, কৃষি অর্থনীতি, মৎস্য, পশুপালন, কৃষি প্রকৌশল, বনবিদ্যা, পরিবেশ বিজ্ঞান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, মৃত্তিকা বিজ্ঞান কিংবা ডিভিএম বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী শিক্ষকরা সরাসরি ১০ম গ্রেডের সুবিধা পাবেন। এই গ্রেডের মূল বেতন স্কেল ১৬ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া, ন্যূনতম তিন বছর মেয়াদি কৃষি ডিপ্লোমা বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকরাও একই গ্রেডের আওতাভুক্ত হবেন।

অন্য দিকে, উদ্ভিদবিদ্যা বা প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে নীতিমালায় কিছুটা ভিন্নতা রাখা হয়েছে। এই শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকরা কর্মজীবনে প্রবেশের সময় প্রাথমিকভাবে ১১তম গ্রেডে (১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা স্কেলে) বেতন পাবেন। তবে পরবর্তীতে বিএড (ব্যাচেলর অব এডুকেশন) ডিগ্রি অর্জন করলে তারাও ১০ম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

নতুন নীতিমালায় শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি মেধার গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী, আবেদনকারী বা কর্মরত শিক্ষকদের সমগ্র শিক্ষাজীবনে একটির বেশি তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের ফলাফল গ্রহণযোগ্য হবে না। এছাড়া এই পদের জন্য সাধারণ প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা অনূর্ধ্ব ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হলেও, একই পদে কর্মরত ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য রাখা হয়েছে। যা অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কর্মক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তাকবচ হিসেবে কাজ করবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের এই সংশোধিত সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে এই আদেশের অনুলিপি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস), এনটিআরসিএ, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডসহ দেশের সকল জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ের এই প্রশাসনিক তৎপরতা দ্রুত বাস্তবায়িত হলে দেশের বিপুল সংখ্যক প্রান্তিক শিক্ষক সরাসরি উপকৃত হবেন, যা সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ