জাতীয় ডেস্ক
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক (আইটি-সাপোর্টেড) পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার আওতায় ভোটার নিবন্ধন পদ্ধতি চালু করেছে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই উদ্যোগ কার্যকর থাকবে এবং এর পরিধি আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের আজকের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এই তথ্য জাতীয় সংসদকে অবহিত করেন।
সংসদে উত্থাপিত জবাবে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকরা যেন সহজে এবং নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন এই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর আগে প্রবাসীদের ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নানা ধরনের আইনি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা ছিল। নতুন এই আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার ফলে প্রবাসীরা দূরবর্তী স্থানে অবস্থান করেও ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন এবং ডাকযোগের মাধ্যমে বা নির্ধারিত অনলাইন প্রক্রিয়ায় নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই বিশেষ উদ্যোগটি পুরোপুরি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে এই পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার আওতায় এনে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসীদের পক্ষ থেকে ভোটাধিকারের দাবি জানানো হচ্ছিল। নির্বাচন কমিশনের এই নতুন ডিজিটাল নিবন্ধন ও পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা প্রবাসীদের রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণে অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করবে। তবে এই ব্যবস্থার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে প্রযুক্তির নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই আইটি-সাপোর্টেড ব্যবস্থাটি পর্যায়ক্রমে আরও সহজতর করা হবে, যাতে সাধারণ প্রবাসীরা কোনো জটিলতা ছাড়াই নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। জাতীয় সংসদে এই তথ্য উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্যদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয় এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়।


