জাতীয় ডেস্ক
চলতি বছরের পবিত্র হজ পালন শেষে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন ৭৯ হাজার ১০০ জন হাজি। গত ৩০ মে শুরু হওয়া এই ফিরতি কার্যক্রম মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে শেষ ২১৬টি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটলো ২০২৬ সালের হজের আনুষ্ঠানিক বিমান যাতায়াত প্রক্রিয়ার।
ধর্ম মন্ত্রণালয় পরিচালিত হজ বুলেটিনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ফিরতি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ১১৬টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৭০টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৩০টি ফ্লাইট। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সর্বোচ্চ ৩৪ হাজার ৫৬৭ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ২৫ map৩৭৭ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১১ হাজার ৪৩ জন হাজিকে পরিবহন করেছে। এছাড়া অন্যান্য নিয়মিত বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৮ হাজার ১১৩ জন।
এ বছর সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীরা সৌদি আরব গমন করেন। চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, মোট প্রত্যাগত হাজির মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৪৫৯ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির অধীনে ৭৪ হাজার ৬৪১ জন হাজি দেশে ফিরে এসেছেন। যদিও হজের আগে নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী বাংলাদেশের জন্য মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা বরাদ্দ ছিল, যার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন নিবন্ধিত ছিলেন।
এদিকে হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে এ বছর সর্বমোট ৫৫ জন বাংলাদেশি পবিত্র মক্কা, মদিনা ও মিনার বিভিন্ন স্থানে ইন্তেকাল করেছেন। মারা যাওয়া হাজিদের মধ্যে পুরুষ ৩৭ জন এবং নারী ১৮ জন। নিয়ম অনুযায়ী তাদের সৌদি আরবেই দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে গত ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে প্রথম প্রাক-হজ ফ্লাইট সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল এবং দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে চলে এই গন্তব্যমুখী ফ্লাইট পরিচালনা, যা শেষ হয় ২১ মে। এরপর গত ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজ সম্পাদন শেষে ৩০ মে থেকে হাজিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে ১ মাস পর সফলভাবে শেষ হলো। এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সমন্বয়ে এবারের ফিরতি কার্যক্রম বড় কোনো বিপর্যয় ছাড়াই সমাপ্ত হয়েছে।


