জাতীয় ডেস্ক
দেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সমজাতীয় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদারে মোট পাঁচ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ বুধবার থেকেই এই মোতায়েন প্রক্রিয়া কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনসার শাখা-২ থেকে জারি করা পৃথক দুটি চিঠির মাধ্যমে এই নির্দেশনা কার্যকর করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমকে আরও নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও জনবান্ধব করতে নবগঠিত পাঁচটি উপজেলাসহ দেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিটিতে ১০ জন করে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। যেসব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগে থেকেই আনসার সদস্য কর্মরত রয়েছেন, সেখানে বিদ্যমান সদস্যদের সমন্বয় করে মোট সংখ্যা ১০ জনে উন্নীত করতে হবে। মোতায়েন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক কাঠামোর বিষয়ে চিঠিতে জানানো হয়, এই পাঁচ হাজার আনসার সদস্যের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি বছর ১১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫০ টাকা ব্যয় হবে। এই অর্থ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের পরিবর্তে আনসার ও ভিডিপির নির্ধারিত বাজেট কোডে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগে ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সম্মতির ভিত্তিতে এই অর্থ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মনিরুল হাসান স্বাক্ষরিত এই চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দফতরে পাঠানো হয়েছে।
এই উদ্যোগের ফলে তৃণমূল পর্যায়ের সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হবে। গ্রামীণ ও উপজেলা পর্যায়ে অনেক সময় স্থানীয় বিশৃঙ্খলা বা নানাবিধ কারণে সরকারি হাসপাতালের কর্মপরিবেশ বিঘ্নিত হয়। সার্বক্ষণিক আনসার সদস্য মোতায়েনের মাধ্যমে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা আরও সুরক্ষিত এবং নিরাপদ পরিবেশে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন, যা দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


