জাতীয় ডেস্ক
সারাদেশে আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে এবার প্রশাসনিক ও আইনি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, অতীতের যে কোনো দুর্বলতা চিহ্নিত করে এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। একই সাথে প্রশ্ন ফাঁসের অপচেষ্টায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যার আধিক্য। পরিসংখ্যান উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, এবারের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৬ লাখ ৪৮ হাজারেরও বেশি ছাত্রী অংশগ্রহণ করছে, যা মেধার মূল্যায়নে নারীদের অগ্রযাত্রার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শিক্ষার্থীদের ভয় ও উদ্বেগহীন পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়ার উপযোগী একটি ন্যায়সংগত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
পরীক্ষা চলাকালীন যেকোনো ধরনের গুজব ছড়ানো রোধ এবং কেন্দ্রের নিরাপত্তা বজায় রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের একাধিক দল মাঠে কাজ করবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কেন্দ্রগুলো নিয়মিত মনিটরিং করবেন।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরীক্ষা পরিবেশ বজায় রাখতে রাষ্ট্রীয় নির্দেশনাসমূহ মেনে চলা সকলের দায়িত্ব। তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেবে, তাই তাদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও কলঙ্কমুক্ত মূল্যায়ন পদ্ধতি উপহার দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।


