অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মাসব্যাপী এক বিশেষ অভিযানে ২ হাজার ৩১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গত ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
বুধবার (১ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের এই চূড়ান্ত পরিসংখ্যান ও বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডিএমপি সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সামগ্রিক অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের দুটি প্রধান ভাগে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সন্ত্রাস, দস্যুতা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ডাকাতিসহ সরাসরি জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭৯৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাদক উৎপাদন, চোরাচালান, স্থানীয় পর্যায়ে কারবার এবং মাদক সেবনের মতো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ১ হাজার ৪৪৬ জনকে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৭১ জন পূর্ব-তালিকাভুক্ত বা পেশাদার অপরাধী নন, তবে সুনির্দিষ্ট অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং মাদক কেনাবেচার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিশেষ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এক মাসব্যাপী এই সমন্বিত কার্যক্রমে ডিএমপির বিভিন্ন গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং স্থানীয় থানা পুলিশ যৌথভাবে অংশ নেয়। মহানগরীর অপরাধপ্রবণ এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি চৌকি স্থাপন ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, গ্রেফতারকৃত সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে সোপর্দ করে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানীর প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধমূলক সিন্ডিকেটগুলোর তৎপরতা ভেঙে দিতে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই বিশেষ অভিযানকে অপরাধ দমনে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তবে তারা মনে করেন, কেবল সাময়িক গ্রেফতারের মাধ্যমে রাজধানীর অপরাধ প্রবণতা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য অপরাধের উৎস, বিশেষ করে মাদকের প্রবেশপথগুলো বন্ধ করা এবং গ্রেফতারকৃতদের আইনি প্রক্রিয়ায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ডিএমপি কতৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অভিযান কেবল একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া এবং নাগরিকদের মনে পূর্ণ নিরাপত্তা বোধ ফিরে না আসা পর্যন্ত এই ধরনের বিশেষ ও চিরুনি অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখা হবে।


