ক্রীড়া ডেস্ক
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়লাভের ঐতিহাসিক স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেও লক্ষ্য পূরণ করতে পারল না আলজেরিয়া। শেষ বত্রিশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে উত্তর আফ্রিকার এই দলটিকে। অন্যদিকে, এই জয়ের মধ্য দিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের পরবর্তী ধাপে পা রাখল সুইজারল্যান্ড। আলজেরিয়ার বিদায়ে ফুটবলের মহোৎসবের নকআউট পর্বে তাদের প্রথম জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো।
আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় ম্যাচটি শুরু হয়। ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরু থেকেই দুই দলই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে খেলতে থাকে। তবে সময় বাড়ার সাথে সাথে সুইজারল্যান্ড মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কব্জায় নিয়ে আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে। আক্রমণাত্মক এই কৌশলের ফল পেতে সুইসদের খুব বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় মাঝমাঠ থেকে গতিময় এক দৌড়ে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে বক্সে প্রবেশ করেন জোহান মানজাম্বি। নিখুঁত দক্ষতায় তার বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে সহজ শটে আলজেরিয়ার জালে বল জড়িয়ে দেন তারকা ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো। সুইজারল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
গোল হজম করার পর ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে আলজেরিয়া। রিয়াদ মাহরেজ এবং হোসেম আওয়ারের নেতৃত্বে একাধিক আক্রমণ শানায় তারা। তবে সুইজারল্যান্ডের শক্তিশালী রক্ষণভাগ এবং বিশেষ করে সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের দুর্দান্ত দক্ষতার কারণে আলজেরিয়ার সবকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। কোবেলের অসাধারণ কয়েকটি সেভের কারণে সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি আলজেরিয়ার। ফলে ১-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধের খেলা শেষ করে বিরতিতে যায় সুইজারল্যান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে আলজেরিয়া। বিরতি থেকে ফিরে খেলা শুরুর মাত্র ৪৮ সেকেন্ডের মাথায় আলজেরিয়ার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ লুফে নেয় সুইজারল্যান্ড। বক্সের ঠিক বাইরে বল পেয়ে নিখুঁত ও গতিময় এক প্লেসিং শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ড্যান এনডোয়ে। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় আলজেরিয়া।
খেলার বাকি সময়ে ম্যাচে ফিরে আসার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় আলজেরিয়া শিবির। কৌশলগত পরিবর্তন এনে দলের আক্রমণের ধার বাড়াতে কোচ বেঞ্চ থেকে একাধিক খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন। মাঠে নামানো হয় আমিন গুইরি, জাওয়েন হাদজাম, আনিস হাজ মুসা এবং হিচাম বুদাউইকে। তবে এই পরিবর্তনগুলোও আলজেরিয়ার আক্রমণভাগে তেমন কোনো কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারেনি। সুইজারল্যান্ডের জমাট রক্ষণভাগের সামনে এসে বারবার খেই হারিয়ে ফেলেন আলজেরিয়ার ফরোয়ার্ডরা। অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজের একটি বিপজ্জনক শট সুইস ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে হাজ মুসা ও বুলবিনার যৌথ প্রচেষ্টাও কোনো গোল এনে দিতে পারেনি।
ম্যাচের শেষ দিকে আলজেরিয়া অল-আউট খেলতে গেলে সুইজারল্যান্ডের সামনে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে ফাবিয়ান রিডার একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করলে তৃতীয় গোলের দেখা পায়নি সুইসরা। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে সুইজারল্যান্ড। এই পরাজয়ের ফলে আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ মিশন এখানেই সমাপ্ত হলো, আর টুর্নামেন্টে নিজেদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শিরোপার দৌড়ে টিকে রইল সুইজারল্যান্ড।


