খেলাধুলা ডেস্ক
বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী ফ্র্যাঞ্চাইজি ফ্রন্টলাইন নাইট রাইডার্স গ্রুপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ২০০৮ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সূচনালগ্ন থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা এই গ্রুপটি এবার লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজেদের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ক্রিকেট স্টেডিয়াম চালু করেছে। ‘নাইট রাইডার্স ক্রিকেট গ্রাউন্ড’ নামের এই আধুনিক ভেন্যুতে মেজর লিগ ক্রিকেটে (এমএলসি) নিজেদের প্রথম হোম ম্যাচ খেলেছে লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্স। ওয়াশিংটন ফ্রিডমের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই স্টেডিয়ামটির আনুষ্ঠানিক ও ঐতিহাসিক যাত্রা সম্পন্ন হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে এই স্টেডিয়ামটির নির্মাণকে একটি বড় ধরনের মাইলফলক হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়মকানুন ও মানদণ্ড কঠোরভাবে বজায় রেখে এই ক্রীড়া অবকাঠামোটি গড়ে তোলা হয়েছে। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের উপযোগী আটটি মূল উইকেট প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া দ্রুতগতির খেলার জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আউটফিল্ড এবং নৈশকালীন ম্যাচ আয়োজনের সুবিধার্থে বসানো হয়েছে ১২০ ফুট উচ্চতার ছয়টি শক্তিশালী ফ্লাডলাইট টাওয়ার।
স্থাপত্য এবং প্রকৌশলগত দিক থেকে এই স্টেডিয়ামের নির্মাণ প্রক্রিয়া ছিল বেশ জটিল। নির্মাণ সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, মাঠের সমতা এবং আন্তর্জাতিক পিচ তৈরি নিশ্চিত করতে মূল অবকাঠামো থেকে ৩২ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি মাটি অপসারণ করতে হয়েছে। ব্যাপক এই ভূখণ্ড সংস্কার কাজের মধ্য দিয়ে প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশকে একটি মানসম্পন্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে।
স্টেডিয়ামটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির এই অগ্রগতি নিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নাইট রাইডার্স গ্রুপের অন্যতম প্রধান স্বত্বাধিকারী ও বলিউড তারকা শাহরুখ খান। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি একে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক ক্রীড়া মানচিত্রে ক্রিকেটের অবস্থান দ্বিতীয় শীর্ষ জনপ্রিয় খেলা হিসেবে। এই জনপ্রিয় খেলাটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে স্থায়ীভাবে নিয়ে আসা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারই অংশ। স্থানীয় ‘ফেয়ারপ্লেক্স’ এবং নাইট রাইডার্স গ্রুপের মধ্যকার এই কৌশলগত অংশীদারত্ব কেবল একটি আধুনিক ক্রিকেট ভেন্যুই তৈরি করেনি, বরং এটি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমী জনগোষ্ঠী এবং বৈশ্বিক ক্রিকেট ভক্তদের মিলনমেলা ও সুস্থ বিনোদনের একটি দীর্ঘমেয়াদি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
নাইট রাইডার্স গ্রুপের ব্যবসায়িক ও ক্রীড়া পরিধি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ১৬ বছরে বিশ্বজুড়ে নিজেদের ক্রিকেট সাম্রাজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত করেছে। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চারটি ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে দল পরিচালনা করছে এই গ্রুপটি। ভারতের আইপিএলে ‘কলকাতা নাইট রাইডার্স’ (কেকেআর) দিয়ে শুরু করে পরবর্তীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) ‘ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স’, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টিতে (আইএলটি২০) ‘আবুধাবি নাইট রাইডার্স’ এবং সর্বশেষে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটে (এমএলসি) ‘লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্স’ নাম নিয়ে বৈশ্বিক ক্রিকেটে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছে তারা।
ক্রীড়া অর্থনীতিবিদদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ক্রিকেটের এই অবকাঠামোগত বিনিয়োগ অত্যন্ত দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। উত্তর আমেরিকায় ক্রিকেটের বাজার তৈরি এবং আসন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোর ভেন্যু হিসেবেও লস অ্যাঞ্জেলেসের এই নতুন স্টেডিয়ামটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায় লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্স এখন থেকে নিয়মিতভাবে নিজেদের মাঠে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ম্যাচগুলো আয়োজন করতে পারবে, যা স্থানীয় পর্যায়ে এই খেলার প্রসারে বড় ধরনের অবদান রাখবে।


