অপরাধ ডেস্ক
চলতি বছরের জুন মাসে সারা দেশে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এক মাসে অন্তত ৩৩৩ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাশিশু। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ধর্ষণ ও ধর্ষণ-সংশ্লিষ্ট অপরাধ।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদ কর্তৃক সংকলিত সর্বশেষ মাসিক পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য জানা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, মোট নির্যাতিত ৩৩৩ জনের মধ্যে ১৭৭ জন কন্যাশিশু এবং ১৫৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী। জুন মাসে মোট ১০০টি ধর্ষণ ও ধর্ষণ-সংশ্লিষ্ট অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৭২ জন কন্যাশিশু এবং ২৮ জন নারী সরাসরি ধর্ষণের শিকার হন। ২৪ জন নারী ও কন্যাশিশু সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ জনই কন্যাশিশু। এ ছাড়া ধর্ষণের পর ৭ জন কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে এবং একজন কন্যাশিশু ধর্ষণের গ্লানি সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। একই সময়ে আরও ৩১ জন কন্যাশিশুসহ মোট ৩৪ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে।
সহিংসতার ভয়াবহতা কেবল ধর্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। গত জুন মাসে বিভিন্ন কারণে ৪৫ জন নারী ও ৯ জন কন্যাশিশুসহ মোট ৫৪ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ৩৩ জনের রহস্যজনক মৃত্যু এবং ১২ জনের আত্মহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
যৌন নিপীড়ন ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মাসজুড়ে ৪৩ জন নারী ও কন্যাশিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৯ জন উত্ত্যক্তকরণ (ইভটিজিং) এবং ১১ জন সরাসরি যৌন নিপীড়নের মুখোমুখি হন। অন্যান্য অপরাধের মধ্যে ১৯ জন শারীরিক নির্যাতন, ৫ জন যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতা, ৩ জন এসিড ও অগ্নিদগ্ধ এবং ২ জন নারী ও কন্যাশিশু পাচারের শিকার হয়েছেন।
দেশের মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও কন্যাশিশুর ওপর এই ক্রমাগত সহিংসতা সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার সংস্কৃতিকে নির্দেশ করে। এই পরিস্থিতি রোধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের কার্যকর ও কঠোর বাস্তবায়ন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে বিচার নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ড জোরদার করা জরুরি।


