সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয়  ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার এবং সাইবার অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি দেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার ও সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমসাময়িক চ্যালেঞ্জের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উঠে আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ ও উদারপন্থী মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিত। কিন্তু একটি চক্র আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহকে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাইবার অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে আলোকপাত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাসংগ্রাম ও একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে আসছে। তিনি এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের পটভূমি স্মরণ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনে এবং সমর্থন আদায়ে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ফিলিস্তিনের অবিরত সংগ্রামের প্রতি বাংলাদেশের নীতিগত, নৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন ভবিষ্যতেও যেকোনো মূল্যে অব্যাহত থাকবে।

বৈঠকে বাংলাদেশে অধ্যায়নরত ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী সুনামের সঙ্গে পড়াশোনা করছেন। এই শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে আগমন এবং শিক্ষা কার্যক্রম কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়া সম্পন্ন করার সুবিধার্থে বিশেষ করে ‘অন-অ্যারাইভাল ভিসা’ বা আগমনী ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ সহযোগিতার জন্য তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রাষ্ট্রদূতের এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দেন। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রেরণের জন্য রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতে কোনো ফিলিস্তিনি নাগরিক বা শিক্ষার্থী বাংলাদেশের ভিসার জন্য আবেদন করলে, নিরাপত্তা ও যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের স্বার্থে সেই আবেদনের একটি অনুলিপি ঢাকায় অবস্থিত ফিলিস্তিন দূতাবাসে পাঠানোর জন্য রাষ্ট্রদূত বিশেষ অনুরোধ জানান। এর ফলে ভিসা প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের গভীর ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ফিলিস্তিনকে আন্তরিকভাবে সমর্থন করে। ফিলিস্তিনের নাগরিকদের সামগ্রিক কল্যাণ ও উন্নয়নে বাংলাদেশ যেকোনো ধরনের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা দিতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতকে মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তাঁর সফল মেয়াদের জন্য শুভ কামনা ব্যক্ত করেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল, যা মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ