জাতীয় ডেস্ক
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবা ও সফটওয়্যার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের মেধায় তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন। তিনি উল্লেখ করেন, অত্যন্ত সাশ্রয়ী ব্যয়ে তৈরি ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারের উদ্ভাবকও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) একজন শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক কোর্সের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এই তথ্য জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা উপস্থিত ছিলেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুয়েটে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা দেশের মেধাবী জনগোষ্ঠীর একটি বিশেষ অংশে পরিণত হয়েছেন। এই শিক্ষাজীবন ও যাত্রাকে অর্থবহ করতে হলে কঠোর অধ্যবসায়, গবেষণার মনোভাব এবং আত্মোন্নতির ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। উচ্চশিক্ষার এই স্তরে অর্জিত জ্ঞানকে দেশের কল্যাণে নিয়োজিত করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশ—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা ও ফ্রান্সের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন। গুগল, অ্যামাজন, টেসলা, সিমেন্স ও স্যামসাংসহ বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চুয়েটের গ্র্যাজুয়েটরা দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। বর্তমান নবীন শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে এই ধারা বজায় রেখে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যোগ্যতার পরিচয় দেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল রূপান্তরের বিভিন্ন কাঠামোগত উদ্যোগ ও অগ্রগতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের জনবান্ধব নীতিমালার অংশ হিসেবে ভূমি সেবার বেশিরভাগ কার্যক্রম এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হচ্ছে। নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ভূমি অ্যাপ’-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, ই-নামজারি ও ই-পর্চাসহ বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ অতি দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে ভূমি সংক্রান্ত সেবা পাচ্ছেন, যা প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
প্রশাসনিক তদারকি ও জবাবদিহিতা জোরদারকরণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতি এবং দৈনিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে জিওফেন্সিং প্রযুক্তিনির্ভর একটি বিশেষ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে সেবার মান উন্নত হচ্ছে এবং গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ে ভূমি সেবা প্রদানে গতিশীলতা এসেছে। সম্পূর্ণ দেশীয় জনবল ও মেধা খাটিয়ে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের এক বড় দৃষ্টান্ত।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন, সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড. আসিফুল হক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আবু কাউছার, মেকানিক্যাল অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে বিশ্বমানের প্রকৌশলী হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


