দেশীয় প্রযুক্তির সোলার সেচপাম্প দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

দেশীয় প্রযুক্তির সোলার সেচপাম্প দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

কৃষি ও পল্লি উন্নয়ন ডেস্ক

কৃষিখাতের আধুনিকায়ন ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সম্প্রসারণে দেশীয় উদ্ভাবনকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। ঠাকুরগাঁওয়ে স্থানীয় এক উদ্ভাবকের তৈরি সৌরশক্তিচালিত ‘সলেমান সোলার সেচপাম্প’ পরিদর্শনের পর সরকারি উদ্যোগে এই প্রযুক্তি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মোলানী বাজারের চুনিহাড়ী পশ্চিমপাড়ায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।

জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব বিবেচনা করে গ্রামীণ পর্যায়ে সৌরশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংকট ও জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যের এই সময়ে বিকল্প শক্তি হিসেবে সোলার সেচপাম্পের ব্যবহার কৃষকদের উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্ভাবন বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। কৃষকদের সেচ ব্যয় কমানো এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে সৌরশক্তিচালিত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো বর্তমান সময়ের দাবি।

উদ্বোধনকালে সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন নতুন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে এই ধরনের নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের কৃষি নীতিতে আধুনিকায়ন, যান্ত্রিকীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভরতাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনৈতিক কাঠামো মজবুত করতে এবং কৃষকদের সরাসরি উপকৃত করতে কৃষি খাতের রূপান্তর এখন অপরিহার্য। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পূর্বে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মাঠ পর্যায়ে সোলার সেচপাম্পের কার্যকারিতা সরাসরি পরিদর্শন করেন এবং এর কারিগরি দিক নিয়ে মূল উদ্ভাবক মো. সলেমান আলীর সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।

উদ্ভাবক মো. সলেমান আলী তাঁর এই প্রযুক্তির উপযোগিতা তুলে ধরে জানান, ডিজেল এবং বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। সেচ কাজে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমলে দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহযোগিতা পেলে এই সাশ্রয়ী প্রযুক্তি খুব দ্রুত দেশের প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস উপস্থিত থেকে প্রযুক্তিটির মাঠ পর্যায়ের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করেন। এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি কর্মকর্তা, কৃষক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উক্ত কর্মসূচিতে অংশ নেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি খাতের টেকসই রূপান্তর নিশ্চিত করা সম্ভব। প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সেচ খরচ কমানো এবং নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সোলার সেচপাম্পের মতো দেশীয় উদ্ভাবনগুলো ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের এই সম্প্রসারণ নীতি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ