জাতীয় ডেস্ক
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহনশীলতা বা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের ব্যাপারে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সুপারিশ বিবেচনা করা হবে না। ১৭ বছরের ধারাবাহিক অপরাধ চক্রের অবসান ঘটিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের নিজস্ব গতিতে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ছিলাদি এলাকায় আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, বিগত দীর্ঘ সময় ধরে চলা মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে পুলিশ প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অপরাধীদের পক্ষে কোনো ধরনের তদবির বা সুপারিশ গ্রহণ না করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিশেষ নির্দেশনা দেন। সমাজে সাময়িকভাবে প্রভাব বিস্তারকারী মাদক ব্যবসায়ীদের অবিলম্বে এই অবৈধ পথ পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, অপরাধের দায়ে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হলে রাষ্ট্র বা দল কোনো পক্ষ থেকেই তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে না।
এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারী সমাজের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন নারীবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের সুফল হিসেবে নারীরা সাংসারিক নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি উপার্জিত অর্থের একটি অংশ সঞ্চয় করতে সক্ষম হচ্ছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছে।
সরকারের এই প্রত্যক্ষ আর্থিক সহযোগিতার সুদূরপ্রসারী সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যাখ্যা করে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এই অনুদান মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পেছনে একটি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ। একটি পরিবারের প্রধান হিসেবে একজন মা যখন সচেতন হন এবং আর্থিক সক্ষমতা অর্জন করেন, তখন তিনি পুরো পরিবারকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতে পারেন। সরকারের দেওয়া এই সহায়তার মাধ্যমে মায়েরা তাদের সন্তানদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলশ্রুতিতে, প্রান্তিক পর্যায়ের এই শিক্ষাগত উন্নয়ন ভবিষ্যতে একটি সুশিক্ষিত ও দক্ষ জাতি গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।
লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় এই জনসভায় মন্ত্রীর পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা ওলামা দলের সভাপতি শাহ মোহাম্মদ এমরান এবং দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার। বক্তারা প্রত্যেকেই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।


