তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য

তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের ছয় দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার ইরানের এই প্রভাবশালী নেতার কফিন সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য প্রকাশ্যে আনা হয়, যেখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনি ও রবিবার খামেনির কফিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে লাল পতাকা হাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে সমবেত হয়েছেন, যা আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে প্রতিশোধ ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার মরদেহ পর্যায়ক্রমে ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কোমে এবং ইরাকের নাজাফ হয়ে কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। সবশেষে ইরানের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।

এদিকে খামেনির দাফন প্রক্রিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি ইরান ও ভেনিজুয়েলার ওপর মার্কিন আধিপত্যের দাবি করে বলেন, ইরানকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলা হয়েছে এবং দেশটি এখন যেকোনো উপায়ে সমঝোতা করতে মরিয়া। খামেনির দাফন সম্পন্ন করার জন্য তেহরানকে এক সপ্তাহের সময় দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রয়াণ-পরবর্তী সময়ে ট্রাম্পের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র রাষ্ট্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নতুন সংকটের মুখে ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ