জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকার বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য অপসারণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সেবা প্রদানে অনিয়ম করা হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের টেন্ডার বাতিল করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। শনিবার সকালে রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।
ডিএসসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, বেশ কিছু এলাকা থেকে বাসাবাড়ির আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ এসেছে। নাগরিক দুর্ভোগ ও আর্থিক শোষণ বন্ধে সিটি করপোরেশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লাইসেন্স বা টেন্ডার নবায়নের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের বিগত দিনের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না।
পরিবেশ সুরক্ষায় গাছের গুরুত্ব ও অক্সিজেন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মো. আবদুস সালাম নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়ির সামনের অংশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানের বর্জ্য রাস্তার মাঝখানে ফেলে যান, যা নগরীর পরিচ্ছন্নতা বিঘ্নিত করে। বাজার কর্তৃপক্ষ ও দোকানদারদের নির্দিষ্ট বিনে ময়লা ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্জ্য ফেলার জন্য সিটি করপোরেশন নির্ধারিত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, যা সবাইকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
ফুটপাত ও উন্মুক্ত স্থানে বসা হকারদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে হকাররা ব্যবসা পরিচালনা করলেও আশপাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করছেন না। এর ফলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে। হকারদেরও নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নগরীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও মশক নিধন কার্যক্রম প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক একটি সাম্প্রতিক জরিপের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচালিত জরিপে প্রায় ৬৫ শতাংশ বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএসসিসির পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মশা নিধনে নতুন কার্যকর ওষুধ ও লার্ভিসাইড ট্যাবলেট ব্যবহার শুরু হয়েছে। যেসব দুর্গম বা আবদ্ধ স্থানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এই ট্যাবলেট সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হাসপাতাল ও নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ও চিকিৎসার সরঞ্জাম মজুত রাখা হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিধন কার্যক্রম সফল করতে নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন প্রশাসক। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসী দায়িত্বশীল না হলে একটি পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত মহানগরী গড়ে তোলা সম্ভব নয়।


