জাতীয় ডেস্ক
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করবে সমাজসেবা অধিদপ্তর। কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি এবং তৃতীয় লিঙ্গ, বেদে, অনগ্রসর ও চা-শ্রমিকসহ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি। আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর আগে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে জুলাই মাসজুড়ে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত ৩০ জুন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এই তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে রাষ্ট্রীয় সহায়তা সরাসরি এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পৌঁছে দেওয়া।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলোর বিষয়ে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। প্রচারকাল শেষ হওয়ার পর, ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত ওয়েবসাইট (dss.bhata.gov.bd/online-application) ঠিকানায় প্রবেশ করে আগ্রহী ব্যক্তিরা অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন গ্রহণের ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা সহজে তালিকাভুক্ত হতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।
আবেদন প্রক্রিয়ার শর্তাবলী উল্লেখ করে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের অবশ্যই নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে আবেদন দাখিল করতে হবে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীর ‘সুবর্ণ নাগরিক কার্ড’ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, পরিচয় যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দ্বারা নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর এবং নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রদান করতে হবে। কেউ যদি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেন, তবে যোগাযোগের বিকল্প মাধ্যম হিসেবে একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বরও যুক্ত করতে হবে।
সরকারের দ্বৈত সুবিধা পরিহার নীতির অংশ হিসেবে নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যারা নিয়মিত অন্য কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা ভোগ করছেন, তারা এই কর্মসূচির আওতায় নতুন করে ভাতার জন্য বিবেচিত হবেন না। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, যেসকল ব্যক্তি পূর্বে অনলাইনে আবেদন করে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন, তাদের নতুন করে আর আবেদন করার প্রয়োজন নেই। তাদের পূর্ববর্তী তথ্যই ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে এবং শূন্যপদ সাপেক্ষে ক্রমানুসারে তাদের ভাতার আওতায় আনা হবে।


