আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের ছয় দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার সকালে রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এই কর্মসূচি শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এই বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরানের রাস্তায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং হাজার হাজার অনুসারী সমবেত হয়েছেন।
সর্বোচ্চ নেতার প্রয়াণে দেশটিতে তীব্র শোকের পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। রাজধানী তেহরানের রাস্তায় সমবেত অনুসারীদের হাতে কালো পতাকার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যায় লাল পতাকা দেখা গেছে। শিয়া মুসলিম ঐতিহ্যে লাল পতাকাকে অন্যায় ও অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। খামেনির অনুসারীরা প্রকাশ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত দায়ী পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র ও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ইরান সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন।
আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কেবল একটি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক বা সাংবিধানিক প্রধান ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থার রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও আদর্শিক কাঠামোর মূল কেন্দ্রবিন্দু। ফলে তার এই প্রস্থান দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের শূন্যতা ও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, জানাজায় লাল পতাকার এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে সাধারণ জনগণের যে ক্ষোভ ও প্রতিশোধের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, তা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভবিষ্যৎ সামরিক ও কূটনৈতিক নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। সরকারের ওপর জনমানসের এই চাপ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ইরানকে আরও আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণে বাধ্য করতে পারে, যার ফলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।


