খেলাধুলা ডেস্ক
ফিফা বিশ্বকাপে স্বাগতিক মেক্সিকোর স্বপ্নভঙ্গ করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। নকআউট পর্বের একটি রোমাঞ্চকর ও নাটকীয় ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩–২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে ইংলিশরা। ম্যাচের একটি বড় সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে সক্ষম হয় থ্রি লায়ন্সরা। ইংল্যান্ডের পক্ষে জয়সূচক গোলটি আসে ম্যাচের ৬০ মিনিটে, পেনাল্টি থেকে যা রূপান্তর করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের মধ্য দিয়ে খেলা জমিয়ে তোলে। ঘরের মাঠে চেনা দর্শকদের সামনে মেক্সিকো ম্যাচের শুরুতেই একের পর এক আক্রমণ রচনা করলেও গোলক্ষুধার্ত ফরোয়ার্ডরা ফিনিশিংয়ের অভাবে জালের দেখা পাচ্ছিলেন না। স্বাগতিকদের সেই ব্যর্থতার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের প্রথমার্ধেই মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে চালকের আসনে বসে যায় ইংলিশরা।
ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ইংল্যান্ডের প্রথম গোলের সূত্রপাত ঘটে রক্ষণভাগ থেকে। ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নেন মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস। তিনি দ্রুত গতিতে বল নিয়ে মেক্সিকোর রক্ষণভাগে আক্রমণ চালান এবং ডানপ্রান্তে অবস্থান করা বুকায়ো সাকার দিকে বল বাড়িয়ে দেন। সাকার নিখুঁত ক্রস স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে ফাঁকি দিলেও পেছনে থাকা জুড বেলিংহাম ভুল করেননি। চলন্ত বলে দুর্দান্ত এক ডাইভিং হেডে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
মেক্সিকান রক্ষণভাগ প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইংল্যান্ড। প্রথম গোলের ঠিক দুই মিনিট পর, অর্থাৎ ৩৮ মিনিটে আবারও দৃশ্যপটে আসেন বেলিংহাম। এবার ডি-বক্সের ভেতর মেক্সিকোর ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে ডান পায়ের ভেতরের অংশের নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান তিনি। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে মেক্সিকো।
তবে স্বাগতিকরা দ্রুতই খেলায় ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় গোলের মাত্র চার মিনিট পর, ম্যাচের ৪২ মিনিটে একটি গোল পরিশোধ করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনে মেক্সিকো। মেক্সিকান ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কিনিয়োনেস ঠান্ডা মাথায় ইংলিশ ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে এই গোলটি করেন। এই গোলের ফলে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচে ফেরার রসদ পেয়ে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচটি আরও বেশি নাটকীয় মোড় নেয়। ম্যাচের ৬০ মিনিটে মেক্সিকোর ডি-বক্সের ভেতর অ্যান্থনি গর্ডনকে ফাউল করেন মেক্সিকান গোলরক্ষক রাউল রানহেল। রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে ইংল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন হ্যারি কেইন। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল কেইনের ষষ্ঠ গোল।
ম্যাচ যখন ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই বড় ধাক্কা খায় তারা। মেক্সিকোর হেসুস গায়ার্দোকে বিপজ্জনকভাবে ফাউল করার অপরাধে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে ম্যাচের বাকি সময় ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় ইংল্যান্ড।
একজন খেলোয়াড় বেশি থাকার সুবিধা নিয়ে মেক্সিকো আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয়। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে ইংল্যান্ডের বক্সের ভেতর মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে ফাউল করে বসেন হ্যারি কেইন। রেফারি মাঠের মনিটরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে মেক্সিকোর পক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। সফল স্পট কিকে গোল করে ব্যবধান ৩–২ করেন মেক্সিকান স্ট্রাইকার রাউল হিমিনেজ।
ম্যাচের শেষ দিকে সমতা ফেরানোর জন্য মেক্সিকো অলআউট ফুটবল খেললেও ১০ জনের ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই নিশ্চিত হয়ে যায় ইংল্যান্ডের শেষ আট এবং স্বাগতিক মেক্সিকোর বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। এই জয়ের ফলে শিরোপার দৌড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড, অন্যদিকে ঘরের মাঠের দর্শকদের হতাশায় ডুবিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো মেক্সিকোকে।


