সরকারি ক্রয় কার্যক্রমকে অধিকতর ফলপ্রসূ করতে শক্তিশালী নতুন কমিটি গঠন

সরকারি ক্রয় কার্যক্রমকে অধিকতর ফলপ্রসূ করতে শক্তিশালী নতুন কমিটি গঠন

জাতীয় ডেস্ক

সরকারি ক্রয় কার্যক্রমকে অধিকতর স্বচ্ছ, ফলপ্রসূ এবং গতিশীল করার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। পুনর্গঠিত এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে। গতকাল রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন এই কমিটি দেশের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বা সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন এবং বিদ্যমান আইনি কাঠামো সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই নতুন কমিটি মূলত ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ এবং ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র কার্যপদ্ধতি ও পরিধি নির্ধারণের কাজ করবে। দেশের সরকারি কেনাকাটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অপচয় রোধ করার ক্ষেত্রে এই দুটি মন্ত্রিসভা কমিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

পুনর্গঠিত এই কমিটির প্রধান প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ), ২০০৬’ এবং ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫’ এর বিভিন্ন ধারা ও উপধারা পর্যালোচনা করা। বিশেষ করে, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আওতাভুক্ত অংশগুলোকে কিভাবে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করা যায়, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়ন করবে এই কমিটি। এছাড়া, অর্থনৈতিক ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি দুটির মাধ্যমে অর্পিত অন্যান্য নীতিগত দায়িত্ব ও নির্দেশনাবলি বাস্তবায়ন করার এখতিয়ারও এই কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।

এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং শীর্ষ আমলাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ; নৌপরিবহন এবং সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের এই সদস্যদের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তার জন্য কমিটিতে রাখা হয়েছে শীর্ষস্থানীয় আমলাদের। যাদের মধ্যে রয়েছেন—মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মঈন উদ্দীন আহমেদ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের উন্নয়ন বাজেট তথা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সিংহভাগ অর্থই ব্যয় হয় সরকারি কেনাকাটা বা বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় পণ্য, কার্য ও সেবা ক্রয়ের মাধ্যমে। এই বিশাল অংকের পাবলিক ফান্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রায়শই আইনি জটিলতা কিংবা স্বচ্ছতার অভাব দেখা যায়। পিপিএ-২০০৬ এবং হালনাগাদ পিপিআর-২০২৫ এর কার্যকারিতা পর্যালোচনার মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ের লুপহোল বা ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করা সম্ভব হলে রাষ্ট্রীয় অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। নবগঠিত এই কমিটি একদিকে যেমন সরকারি ক্রয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করতে পারবে, অন্যদিকে এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বড় অবদান রাখতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ