আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গত ২৪ জুন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৩৪ font-weight:bold;২ জনে দাঁড়িয়েছে। শক্তিশালী এই ভূকম্পনে আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ হাজার ৭০০ জন বাসিন্দা। এছাড়া ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সোমবার এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ জুন উত্তর-কেন্দ্রীয় ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। অগভীর উৎপত্তিস্থলের এই জোড়া কম্পন ও তার পরবর্তী প্রায় ১ হাজার আফটারশকে (অনুকম্পন) লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল। বিশেষ করে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
ভেনেজুয়েলার তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে শত শত বহুতল ভবন ধসে পড়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাথমিক সরকারি হিসাব মতে, ভূমিকম্পে সরাসরি ধসে পড়েছে অন্তত ১৯০টি স্থাপনা এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৮৫৬টি ভবন। এই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের কারণে ১৭ হাজার ৩৪৫ জন বাসিন্দা সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
বিপর্যস্ত এলাকায় মানবিক সংকট মোকাবিলায় সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে ৮৬ হাজার ৭৯৪টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। উপদ্রুত এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যে ৭৯টি অস্থায়ী আশ্রয় শিবির বা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ২৩ হাজার ৮২০ জন রোগীকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। জীবন রক্ষাকারী উপাদান হিসেবে এখন পর্যন্ত দুর্গতদের মাঝে ৯ হাজার ৫৮৫ টন খাদ্য এবং ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮ লিটার পানি বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে ধসে পড়া কংক্রিটের স্তূপের নিচ থেকে নিখোঁজদের উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ভেনেজুয়েলা সরকারের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দুর্গত এলাকাগুলোতে ৪ হাজার ৮৮ জন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী অনুসন্ধান কাজে যোগ দিয়েছেন। উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম গতিশীল করতে দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে আরও ২৯ হাজার ৫৬৭ জন পেশাদার কর্মী এবং ২৭ হাজার ৪৮২ জন স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় বেগ পেতে হচ্ছে, তবে নিখোঁজদের স্বজনদের আশা পূরণে উদ্ধারকারীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।


