অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত

জাতীয় ডেস্ক

দেশের বিশিষ্ট এই বুদ্ধিজীবীর প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তার মরদেহ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রাখা হবে। এরপর বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। শহীদ মিনার থেকে দুপুর ১২টায় মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে, সেখানে দুপুর ১টা পর্যন্ত সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহীরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মরহুমের দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

এর আগে, গতকাল রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। প্রবীণ এই গবেষকের মৃত্যুর খবরে দেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি অত্যন্ত কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

শিক্ষাজীবন সমাপ্তির পর তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে যোগদান করেন। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে অধ্যাপনা পরিচালনা করেন। কর্মজীবনে তিনি কেবল একজন শিক্ষকই ছিলেন না, বরং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণায় অনন্য অবদান রেখেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখান থেকেই অবসরে যান।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের অবদান শুধু শ্রেণিকক্ষেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করছিলেন। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। দেশের প্রগতিশীল আন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে তার বুদ্ধিবৃত্তিক ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন, যা দেশের সাহিত্য ও সমাজ চিন্তায় গভীর প্রভাব ফেলেছে।

পেশাদার গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মতে, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রয়াণ বাংলাদেশের মননশীল সাহিত্য, উচ্চশিক্ষা এবং ভাষা আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার রেখে যাওয়া আদর্শ ও গবেষণাকর্ম আগামী প্রজন্মের গবেষক ও ভাষা-প্রেমিকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

শীর্ষ সংবাদ