অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু সোনার দামের অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে পরপর দুই দফায় রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধির পর আজ সোমবার (৬ জুলাই) সবশেষ নির্ধারিত সর্বোচ্চ দামেই বিক্রি হচ্ছে সোনা। বর্তমানে ভ্যাটসহ ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৮ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ মূল্যের রেকর্ড। স্থানীয় বাজারে খাঁটি সোনা বা তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের একমাত্র প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। একদিনের ব্যবধানে এই ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়ানো হয়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালেও এক দফা সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সেদিন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়াও ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ gold ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই দামের রেকর্ড ভেঙে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে সোনার দাম পুনরায় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়।
চলতি বছর দেশের বাজারে সোনার দামের ওঠানামায় এক নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা গেছে। বাজুসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বছরের এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সর্বমোট ৮৬ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৪৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৪২ বার দাম কমানো হয়েছে। এছাড়া ১ বার ভ্যাট সংক্রান্ত বিষয়ের কারণে দাম সমন্বয় করা হয়। ঘন ঘন এই দাম পরিবর্তনের ফলে খুচরা বাজারের ক্রেতা ও সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার ঊর্ধ্বমুখী চাহিদাই দেশের বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা বা নতুন ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সকল নিবন্ধিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য তালিকা কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা ও নিখুঁত কারুকাজভেদে প্রতি ভরিতে নির্ধারিত আইনি মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। সংগঠনটি কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, যেহেতু বর্তমান নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাই কোনো জুয়েলারি ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো ভ্যাট আদায় করতে পারবে না। বাজার তদারকি এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাজুস নিয়মিত সারাদেশে অভিযান পরিচালনা করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


