জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশ সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রামীণ জনপদের সার্বিক উন্নয়নে বর্তমান নির্বাচিত সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সোমবার সকালে রাজধানীর চামেলীবাগে অবস্থিত সেন্টার অন ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (সিরডাপ) মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক পল্লী উন্নয়ন দিবস এবং সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি ও অবকাঠামোর টেকসই রূপান্তর। গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সামগ্রিক ও সুষম অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার বিভিন্ন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যা দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হয়েছে। এই কার্ডগুলোর মাধ্যমে প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের মানুষ সরাসরি সরকারি সহায়তা ও ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সুবিধা পাচ্ছেন। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন এবং বৈষম্য হ্রাসে সরাসরি অবদান রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘ মেয়াদে গ্রামীণ জনপদের টেকসই উন্নয়নের জন্য স্থানীয় পর্যায়ের তরুণ ও নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, পল্লী এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সম্পদ নির্ভর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমই খাতের বিকাশে সরকার ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে এবং শহরমুখী অভিবাসনের প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গ্রামীণ উন্নয়নে সিরডাপের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত প্রায় পাঁচ দশক বা পাঁচ যুগ ধরে সংস্থাটি এই অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর পল্লী উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে সিরডাপের সাম্প্রতিক গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে গ্রামীণ কৃষি ও জীবনযাত্রার ওপর। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ এবং দুর্যোগ সহনশীল টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে নজর দিচ্ছে সরকার। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহায়তা বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়নকে আরও বেগবান করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে দেশী-বিদেশী প্রতিনিধি, পল্লী উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


