অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মহাপ্রয়াণ: মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মহাপ্রয়াণ: মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন

জাতীয় ডেস্ক

দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মরদেহে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন ও নামাজে জানাজা শেষে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। প্রথিতযশা এই বুদ্ধিজীবীর বিদায়ে দেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১০টায় অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রয়াতের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের জানান, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের অসমাপ্ত কাজ ও স্মৃতি ধরে রাখতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রী শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতে এই গুণী ব্যক্তিত্বের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশকে ভালোবেসে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন এবং সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বাংলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বেলা ১১টায় তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের নাগরিকেরা তার প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মরহুমের শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেন এবং বিভাগীয় প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি প্রগতিশীল চিন্তাধারা ও মননশীল সাহিত্য চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। দেশের শিক্ষা সংস্কার ও সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার আন্দোলনে তিনি ছিলেন অন্যতম অগ্রদূত। মৃত্যুকালে তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

একজন প্রাজ্ঞ লেখক ও গবেষক হিসেবে বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি দীর্ঘদিন ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি উচ্চমানের সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেছেন। তার রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা কুড়িরও অধিক। এর মধ্যে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’, ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ‘স্বদেশচিন্তা’ উল্লেখযোগ্য। মননশীল প্রবন্ধ সাহিত্য ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮১ সালে তিনি ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’-এ ভূষিত হন। তার এই প্রয়াণে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পরিমণ্ডলে যে ক্ষতি হলো, তা দীর্ঘকাল অপূরণীয় থাকবে বলে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ