দেশের আটটি বিভাগেই ঝড়-বৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে : আবহাওয়া অধিদপ্তর

দেশের আটটি বিভাগেই ঝড়-বৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে : আবহাওয়া অধিদপ্তর

জাতীয় ডেস্ক

দেশের ওপর মৌসুমী বায়ু অত্যন্ত সক্রিয় থাকায় গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণ হচ্ছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা, যার ফলে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। একই সাথে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের তীব্র সংকট।

অন্য দিকে, টানা বৃষ্টির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের প্রধান প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র রাজধানী ঢাকায়। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় মৌসুমের সর্বোচ্চ ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই রেকর্ড বৃষ্টিপাতে ঢাকার কারওয়ান বাজার, মিরপুর, পুরান ঢাকা, ধানমন্ডি, মালিবাগসহ অধিকাংশ নিচু এলাকার প্রধান সড়ক ও গলিপথ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় তৈরি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। সোমবার সকাল থেকেই অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষকে চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গণপরিবহনের তীব্র সংকট এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে স্থবির হয়ে পড়েছে ঢাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

সার্বিক এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগ ও শঙ্কা বিরাজ করলেও, আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আপাতত কোনো স্বস্তির পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির নিয়মিত বুলেটিন অনুযায়ী, সোমবার দেশের প্রায় সব বিভাগেই অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির এই তীব্রতা বেশি থাকবে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও বিস্তৃতির আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষ বর্তমানে ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত অবস্থান করছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর পূর্ণ সক্রিয় থাকায় বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টাতেও দেশের চার বিভাগে অধিকাংশ জায়গায় এবং বাকি চার বিভাগে অনেক জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য পরিবর্তন হলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্ষা মৌসুমে স্বল্প সময়ে অতিভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। বিশেষ করে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বন্যাকবলিত অঞ্চলে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সাথে নদী তীরবর্তী এলাকার বাঁধগুলোর টেকসই সংস্কার না করা হলে দীর্ঘমেয়াদে জনজীবনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ