জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরিশাল সফরকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সোমবার সকাল থেকেই টোলপ্লাজা, এক্সপ্রেসওয়ে এবং এর সংযোগ সড়কগুলোতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অবস্থান নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম বরিশাল সফর। এই সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর করে তোলেন মাওয়া সংলগ্ন এলাকা। সকাল থেকেই মাওয়া প্রান্তে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর ও নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতুর প্রবেশমুখ এবং আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে পদ্মা সেতু অতিক্রম করে বরিশালে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি প্রথমে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, যা সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্মসূচি সমাপ্তির পর প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় ও আঞ্চলিক দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন। উক্ত সভায় সরকারের চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের গতিশীলতা রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সফর শেষে আজই সড়কপথে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর মাওয়া আগমন উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু। এছাড়াও মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম এরশাদ মানু এবং রাড়ীখাল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এমেল লস্করসহ স্থানীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সেখানে অবস্থান করছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলে এটিই তাঁর প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক সফর হওয়ায় এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু ব্যবহার করে সড়কপথে এই সফর গ্রামীণ অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিন্যাসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর যাতে সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল এবং নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।


