ইরানের কৃষি সেচকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত, পারস্য উপসাগরে তীব্র উত্তেজনা

ইরানের কৃষি সেচকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত, পারস্য উপসাগরে তীব্র উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহর শহরের একটি কৃষি সেচ পাম্পকেন্দ্রে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ বস্তুর আঘাতে একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভালিউল্লাহ হায়াতি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সোমবার প্রথম প্রহরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

ডেপুটি গভর্নর জানান, স্থানীয় সময় দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিটের মধ্যে খুজেস্তান প্রদেশের অন্তত আটটি স্থানে মার্কিন বাহিনী কয়েক দফায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে আহতদের স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে জরুরি তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ ধারণ করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আক্রমণাত্মক তৎপরতার জবাবে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইতোমধ্যে ইরানের একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত বন্দর আব্বাস এবং কেশম দ্বীপ অন্যতম।

এই হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তেহরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েনকৃত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান দ্বিপাক্ষিক এই যুদ্ধ পরিস্থিতি সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে চরম সামরিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ