জাতীয় ডেস্ক
মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২৯০ জন বাংলাদেশিসহ অন্তত ৫০৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। দেশটির ১৮টি ভিন্ন স্থানে একযোগে পরিচালিত এক বিশেষ যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। মূলত অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশিদের মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, এই যৌথ অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ, পুলিশ ও স্থানীয় সরকার প্রশাসনের মোট ৮৭৬ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকর্তা ও বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২ হাজার ২৬০ জনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৫০৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাগরিক রয়েছেন বাংলাদেশের। ২৯০ জন বাংলাদেশি ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন মিয়ানমারের ১০১ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৬৬ জন, নেপালের ৩৮ জন, ভারতের ৩৬ জন এবং অন্যান্য দেশের ১০ জন নাগরিক। আটককৃতদের বয়স ২১ থেকে ৫২ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ৯৫ জন নারী রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত সবাইকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দেশটির বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ডিপোতে (ডিটেনশন সেন্টার) স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া, চলমান এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় সাক্ষী হিসেবে সহায়তার জন্য আরও ১২০ জন ব্যক্তিকে বিশেষ নোটিশ (বোরং ২৯) দিয়েছে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ।
ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে— বৈধ ভ্রমণ বা কাজের কাগজপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করা (ওভারস্টে) এবং ভিসার শর্তাবলীর অপব্যবহার করা। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটককৃতদের অনেকের কাছে নির্মাণ খাতের ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট থাকলেও তারা তা লঙ্ঘন করে খুচরা কাপড়ের দোকানে কাজ করছিলেন। এছাড়া, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) কার্ডধারী কয়েকজন ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে, যাদের কার্ডের সত্যতা যাচাই করার প্রক্রিয়া চলছে।
মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসী ও তাদের নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়াতে দুই শতাধিক ‘হটস্পট’ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এই এলাকাগুলোর প্রায় অর্ধেকই দেশটির অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল ‘ক্লাং ভ্যালি’ এলাকায় অবস্থিত।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে মূল কর্মসংস্থানের বাইরে অন্য খাতে অননুমোদিত কাজ করা এবং ভিসার অপব্যবহার রোধে এই ধরনের আকস্মিক অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। এই অভিযানের ফলে বৈধ কাগজপত্রহীন বিদেশি কর্মীদের পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান অবৈধ কর্মী নিয়োগ করছে, তারাও কঠোর জরিমানার সম্মুখীন হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা ও আইনি সহায়তার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।


