জাতীয় ডেস্ক
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৯ বছর বয়সে মারা যান এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। দিনটি পালন উপলক্ষে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটায় জন্মগ্রহণ করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরবর্তীতে তার পরিবার রংপুরে স্থায়ীভাবে চলে আসে। ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে অসামরিক সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ। এরপর ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা প্রায় নয় বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। প্রবল গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ক্ষমতার বিচ্যুতি ও দীর্ঘ কারাবাসের পরও বাংলাদেশের বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে তার গভীর প্রভাব বজায় ছিল।
জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৬টায় রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এ ছাড়া সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মাইকযোগে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং এরশাদের বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক ভাষণ প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও তার স্মরণে বিশেষ আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধান কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় রংপুর নগরীর দর্শনায় অবস্থিত এরশাদের বাসভবন ও সমাধিস্থল ‘পল্লী নিবাসে’ কোরআন তেলাওয়াত, কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। এই স্মরণসভায় জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সারা দেশের জেলা ও উপজেলা কার্যালয়গুলোতেও আলোচনা সভা ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অধ্যায় অত্যন্ত দীর্ঘ এবং একই সাথে বিতর্ক ও প্রশংসায় মিশ্রিত। তার দীর্ঘ নয় বছরের শাসনামলে দেশের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তন, যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার মতো বড় কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছিল, যা বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। তবে তার এই দীর্ঘ সামরিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দেশের তৎকালীন প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
তার প্রয়াণের পর জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতৃত্ব ও কৌশল নিয়ে একাধিক সংকট তৈরি হলেও, সংসদের বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে এবং আঞ্চলিক ভোটারদের ধরে রাখতে দলটি এখনো সচেষ্ট। আজকের এই মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টি তাদের রাজনৈতিক ভিত্তি ও সাংগঠনিক শক্তি পুনর্মূল্যায়নের একটি সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।


