জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পায়রা বন্দরে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পায়রা বন্দরে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

পরিবেশ ও জলবায়ু ডেস্ক

উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাস এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে পায়রা বন্দরে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে পায়রা বন্দর এলাকার অভ্যন্তরে একটি ফলদ গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ সাইফ-উল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত পরিবেশবান্ধব সবুজ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চারা রোপণকালে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রোপণকৃত চারাগুলোর সঠিক পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে একটি বিশেষায়িত টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম চারাগুলোর বৃদ্ধি ও সুরক্ষায় সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করবে, যাতে রোপণ করা গাছগুলো টেকসই বনায়নে রূপ নিতে পারে।

উদ্বোধনকালে পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফ-উল ইসলাম জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে উপকূলীয় বনায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এই ঝুঁকি ও ক্ষতিকর প্রভাব থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণের এই বিশাল কর্মসূচি বন্দর এলাকাকে কেবল দৃষ্টিনন্দন ও সবুজায়িতই করবে না, বরং প্রাকৃতিকভাবে এই অঞ্চলের মাটির ক্ষয়রোধ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসেও সুদূরপ্রসারী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়রা বন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনার চারপাশে এই ধরনের ব্যাপক বনায়ন উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র জোয়ারের প্রকোপ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকায় রোপণ করা ৩০ হাজার বৃক্ষ প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করবে এবং ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা কমাতে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া বিশাল এই সবুজ বলয় মাটির গঠন মজবুত করার মাধ্যমে নদীভাঙন রোধে কার্যকরী অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধুমাত্র চারা রোপণের মধ্যেই এই কর্মসূচি সীমাবদ্ধ থাকবে না। পুরো বন্দর এলাকাকে পরিবেশবান্ধব গ্রিন পোর্ট বা সবুজ বন্দর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পথে এই বনায়ন কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। আগামী দিনগুলোতেও বন্দরের খালি জায়গাগুলোতে পর্যায়ক্রমে আরও পরিবেশবান্ধব ও ফলদ বৃক্ষরোপণ করা হবে বলে বন্দর প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ