আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চলমান ইরান-মার্কিন সামরিক সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি জুলাই মাসের শুরুতে আরব সাগরে সংঘটিত এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নৌবাহিনীর এক পাইলটের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই সংঘাতে নিহত মার্কিন সামরিক কর্মীর সংখ্যা ১৪ জনে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা চারশত পার হয়ে গেছে। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ জুলাই) মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে হালনাগাদকৃত এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আরব সাগরে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ও হতাহতের চিত্র
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এমএইচ-৬০এস (MH-60S) সিহক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। নৌবাহিনী প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাটিকে একটি জরুরি জল অবতরণ (এমার্জেন্সি ওয়াটার ল্যান্ডিং) হিসেবে বর্ণনা করেছে। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে এই দুর্ঘটনার পেছনে শত্রুপক্ষের কোনো হামলা বা যুদ্ধকালীন বৈরি তৎপরতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পর পরই হেলিকপ্টারে থাকা অপর তিন ক্রু সদস্যকে জীবিত ও স্থিতিশীল অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ থাকা পাইলট শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান। চলতি বছরের মার্চ মাসে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রত্যক্ষ যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম দফায় দুটি পৃথক ঘটনায় ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন। জুলাইয়ের এই অ-যুদ্ধকালীন দুর্ঘটনাটি সেই তালিকায় ১৪তম মৃত্যু হিসেবে যুক্ত হলো।
পূর্ববর্তী সংঘাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
চলতি বছরের মার্চে সংঘাত শুরুর পর কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন কমান্ড সেন্টারে ইরানের ড্রোন হামলায় প্রথমে ছয়জন সৈন্য নিহত হন। এর কিছুদিন পর, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী বিমানবাহিনীর একটি কেসি-১৩৫ (KC-135) ফুয়েল ট্যাংকার বা জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ইরাকে বিধ্বস্ত হলে আরও ছয়জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হন। এছাড়া প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে হামলায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক সেনার মৃত্যু হয়।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার পর্যন্ত এই সংঘাতে আহত মার্কিন সেনার মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৪ জনে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, আহতদের একটি বড় অংশই মাথায় বা মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত বা ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি (TBI)-র শিকার হয়েছেন।
দীর্ঘমেয়াদী ব্রেইন ইনজুরির উদ্বেগ
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই সংঘাতের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে সৈন্যদের দীর্ঘমেয়াদী ব্রেইন ইনজুরি। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের কারণে সৈন্যরা এই ধরনের অদৃশ্য অথচ মারাত্মক স্নায়বিক আঘাতের সম্মুখীন হচ্ছেন, যা বর্তমানে মার্কিন সামরিক নীতি-নির্ধারকদের ভেতর বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সেন্ট্রাল কমান্ডের অপর মুখপাত্র মেজর এমা থম্পসন জানিয়েছেন, আহত সৈন্যদের প্রায় সকলেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পুনরায় নিজেদের কাজে ফিরেছেন। তবে গুরুতর আহত কতজনকে চিকিৎসার জন্য যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে মার্কিন কমান্ড নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।


