জাতীয় ডেস্ক
চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের পাশে সরকার সার্বক্ষণিকভাবে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, দুর্গত এলাকার মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে সরকার সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
সোমবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেউচিয়া ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন, স্থানীয় বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং ত্রাণ বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী সরকারের এ অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা ও সহমর্মিতা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, বিগত এক সপ্তাহ ধরে এই অঞ্চলের মানুষ চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন। এই সংকটকালীন সময়ে প্রতিটি দুর্গত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ চলছে।
বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, বর্তমান দুর্যোগকালীন সময়ে কেবল খাদ্য সহায়তাই নয়, বরং পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বন্যায় যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা মেরামতের জন্য সরকারি তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া যেসব কৃষকের ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে, মাছের ঘের ভেসে গেছে কিংবা গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রণোদনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যা পরিস্থিতির প্রথম দিন থেকেই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে মাঠপর্যায়ে তৎপর রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও শুরু থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। সরকারের এই সামগ্রিক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যেই এই প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে।
উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের কথা উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে আটকে পড়া মানুষের কাছে পৌঁছাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং বিমান বাহিনী আকাশপথে বিপন্ন মানুষের দোরগোড়ায় খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।
সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-চট্টগ্রামের এই আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সব বিভাগ একযোগে কাজ করছে। পানি সম্পূর্ণ নেমে না যাওয়া পর্যন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই সরকারি তৎপরতা ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


