তারুণ্য ও স্টার্টআপের সম্ভাবনায় নতুন দিগন্ত: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

তারুণ্য ও স্টার্টআপের সম্ভাবনায় নতুন দিগন্ত: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের প্রত্যয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে বিশেষ আলোচনা ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠান। ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই বিশেষ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে পৌঁছান। সেখানে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বিশেষ উদ্যোগের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। দেশের তরুণ সমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এবং সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ খাতকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অধিবেশনে দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ উদ্যোক্তা, সফল স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা, প্রযুক্তি খাতের নীতিনির্ধারক ও জাতীয় পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার পথ সুগম করা। দিনব্যাপী এই আয়োজনে তরুণ উদ্যোক্তাদের নতুন নতুন ব্যবসায়িক মডেল, দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের বর্তমান বিকাশ, কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত সেমিনার ও প্যানেল আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশই তরুণ। এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশকে সঠিক দিশা দিতে স্টার্টআপ সংস্কৃতির বিকাশ অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান বৈশ্বিক বাজারে সনাতন কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসায়, তরুণদের চাকরিপ্রার্থীর পরিবর্তে চাকরিদাতা বা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অংশগ্রহণ এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই উদ্যোগ দেশের নতুন ও উদীয়মান উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা দেশীয় স্টার্টআপগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, ই-কমার্স, কৃষি-প্রযুক্তি এবং আর্থিক সেবামূলক (ফিনটেক) স্টার্টআপগুলো যদি প্রয়োজনীয় তহবিল ও নীতিগত সহায়তা পায়, তবে তা জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা ও শিল্পের (একাডেমিয়া অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি) মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও একটি নতুন মাত্রা যোগ হলো।

অনুষ্ঠানের পরবর্তী সেশনগুলোতে তরুণদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করা হবে এবং অভিজ্ঞ মেন্টরদের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে। সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের এই তরুণ জনগোষ্ঠী কীভাবে আগামী দিনে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে, তা-ই এই আয়োজনের মূল ভাবার্থ হিসেবে উঠে এসেছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ