বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে চিটাগাং চেম্বারের এক কোটি টাকা অনুদান

বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে চিটাগাং চেম্বারের এক কোটি টাকা অনুদান

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে এক কোটি টাকার অনুদান প্রদান করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন ‘দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (সিসিসিআই)।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে চেম্বারের পক্ষ থেকে এই অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুদানের চেকটি হস্তান্তর করেন। এ সময় সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

অনুদান গ্রহণকালে প্রধানমন্ত্রী সংকটাপন্ন সময়ে দেশের ব্যবসায়ী সমাজের এমন দায়িত্বশীল ও মানবিক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও ব্যবসায়ী সংগঠনের অংশগ্রহণ জাতীয় সংকট উত্তরণে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের মানবিক সহায়তার জন্য তিনি চিটাগাং চেম্বারের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।

বন্যার কারণে দেশের ব্যবসা ও শিল্প খাতে যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তা নিয়ে সরকার অবগত রয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, বন্যার ফলে শিল্প-কারখানা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর যে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে, তা সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের পুনর্বাসনে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে দ্রুত তাদের উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক জানান, ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবেই তারা এই অনুদান প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, দেশের যেকোনো জাতীয় সংকটে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সর্বদা প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য যে, দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার কারণে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং কৃষি ও শিল্প খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠন, শিল্পগোষ্ঠী এবং ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ তহবিল গঠন ও সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে জমা হওয়া এই অর্থ বন্যাদুর্গত মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসায়ীদের এই অনুদান শুধু একটি আর্থিক সহায়তা নয়, বরং দুর্যোগের সময়ে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে দ্রুত গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষিত সহায়তা প্যাকেজ ও ব্যবসায়ীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ