জাতীয় ডেস্ক
দেশের সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন। বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লা সদর উপজেলার জগন্নাথপুর মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এই দেশে প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সরকার দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল অতীতে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ ও দাঙ্গা সৃষ্টির মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালিয়েছে। সরকারের কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতার কারণে সেই অপশক্তিগুলো বারবার ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও কোনো অশুভ শক্তিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ রেখে যাওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি জগন্নাথপুর মন্দিরের সার্বিক উন্নয়ন এবং মন্দিরের অবকাঠামোগত সংস্কারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও সম্প্রীতির ধারা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় বক্তারা কুমিল্লাসহ সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় আচার পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা উল্লেখ করেন, যেকোনো ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের রুটিন দায়িত্ব এবং কুমিল্লায় শান্তিপূর্ণভাবে রথযাত্রা সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
রথযাত্রার উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার এবং পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। এছাড়া অনুষ্ঠানে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্ত-অনুরাগী অংশগ্রহণ করেন।
রথযাত্রা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে ও এর আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উৎসবস্থলসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে টহলে নিয়োজিত রয়েছেন। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় দিনব্যাপী বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রথযাত্রা উদযাপন করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে কুমিল্লায় এবারের রথযাত্রা উৎসব কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রশাসন সন্তোষ প্রকাশ করেছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়েও সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।


