আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আগামী ৯ থেকে ১২ আগস্ট নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘তৃতীয় আন্তর্জাতিক আদিবাসী ভাষা সাংবাদিকতা সম্মেলন-২০২৬’। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় সাংবাদিকতার ভূমিকা এবং এই পেশার বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে এই চার দিনব্যাপী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
নেপাল ফেডারেশন অব ইন্ডিজেনাস ন্যাশনালিটিজ জার্নালিস্টস (ফোনিজ), নিউয়া ন্যাশনাল ফোরাম অব জার্নালিস্টস এবং সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের যৌথ উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সম্প্রতি কাঠমান্ডুর নয়াবাজারে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভায় সম্মেলনের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সভায় ফোনিজের মহাসচিব সমীর বালামি সম্মেলনের মূল রূপরেখা উপস্থাপন করেন।
আয়োজক কমিটির তথ্যানুসারে, এবারের সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের আদিবাসী ভাষাভিত্তিক সাংবাদিকতায় নিয়োজিত প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আদিবাসী ভাষায় সাংবাদিকতার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা এবং এই খাতের উন্নয়ন ও প্রসারে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করা। দীর্ঘদিনের অবহেলা, তথ্যপ্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং ভাষার বিলুপ্তি রোধে সংবাদমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা কীভাবে রাখা যায়, তা নিয়ে সম্মেলনে নিবিড় আলোচনা হবে।
চার দিনব্যাপী এই আয়োজনে দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে বেশ কয়েকটি প্যানেল আলোচনা, গবেষণাপত্র উপস্থাপন এবং মতবিনিময় সভার আয়োজন রাখা হয়েছে। এসব সেশনে আদিবাসী সাংবাদিকতার পেশাগত উৎকর্ষ সাধন এবং মাতৃভাষাভিত্তিক সাংবাদিকতাকে সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথ স্বীকৃতি ও অন্তর্ভুক্তির দাবির পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের কৌশল নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া আদিবাসী ভাষা, লিপি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং এই ক্ষেত্রে নেপালের অভিজ্ঞতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার ওপর জোর দেওয়া হবে।
মূল আলোচনা ও কর্মশালা ছাড়াও সম্মেলনের কর্মসূচিতে নেপালের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐহিত্যকে তুলে ধরার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের জন্য বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রার পাশাপাশি ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া নেপালি ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির সাথে প্রতিনিধিদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কূটনীতি এবং পর্যটন প্রসারেও সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন।
আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষাগত অধিকার সুরক্ষা এবং সাংবাদিকতায় তাদের সমান অংশগ্রহণের বিষয়টি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার ইস্যু হিসেবে স্বীকৃত। বিশেষ করে ডিজিটাল যুগে সংবাদমাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষার ব্যবহার এবং সঠিক তথ্য পরিবেশন নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এবারের সম্মেলন আদিবাসী সাংবাদিকতার এই চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পেশাগত নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে মূলধারার গণমাধ্যমে জোরালো করতে এবং তাদের ভাষা ও লিপি রক্ষায় নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সহায়ক হবে। সম্মেলন শেষে আদিবাসী সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাপী ভাষার বৈচিত্র্য রক্ষায় একটি সমন্বিত ঘোষণাপত্র আসতে পারে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


