জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে জাতীয় সংহতিই এখন প্রধান নিয়ামক।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জনপ্রশাসন সভা কক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে দেশের ১৭টি জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সরকারের নিকট সুনির্দিষ্ট দাবি উপস্থাপন করেন।
বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের উত্থাপিত দাবিনামায় সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বিশেষ ভূমি কমিশন গঠন, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন আয়োজন এবং তাদের গোত্রভিত্তিক পরিচিতি প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। এছাড়াও আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার স্থাপন, রিজার্ভ বনাঞ্চল বা সরকারি প্রকল্পের নামে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ করা এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার দাবি জানানো হয়।
প্রতিনিধিদের সমস্যার কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ পাচার না হলে বর্তমানে দেশের অনেক কাঠামোগত ও সামাজিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হতো। সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব খাতের নাজুক অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর অবস্থার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, পূর্ববর্তী সরকার একটি পুরো প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই ধ্বংসলীলা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সেগুলোকে ৩১ থেকে ৫০ এবং বর্তমান সরকারের পরিকল্পনায় ১০১ বেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিউনিটি স্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ জীবনরক্ষাকারী মেডিকেল সরঞ্জাম—যেমন কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিংয়ের ওপর আরোপিত কর হ্রাস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো গড়তে চায় যেখানে কোনো জাতি-গোষ্ঠী বৈষম্যের শিকার হবে না। তিনি সবাইকে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং সংসদ সদস্য আন্না মিনজসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ধৈর্যসহকারে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের বক্তব্য শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি দাবি পর্যালোচনার আশ্বাস প্রদান করেন।


