সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৫০ কিলোওয়াট রুফটপ সোলার প্রকল্পের উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৫০ কিলোওয়াট রুফটপ সোলার প্রকল্পের উদ্বোধন

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ শুক্রবার সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নবনির্মিত ১৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন অন-গ্রিড রুফটপ সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অব্যবহৃত ছাদে স্থাপন করা এই প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সরকারের চলমান উদ্যোগের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রকল্পটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর গত ৫ জুলাই এর পরীক্ষামূলক উৎপাদন বা কমিশনিং শুরু হয়। তথ্য অনুযায়ী, কমিশনিংয়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রকল্পটি থেকে ৬ দশমিক ১৩ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এছাড়া গত ৯ জুলাই প্রকল্পটিকে নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে মোট ৭১ লাখ ২৬ হাজার ১৬ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিদ্যুৎ খরচ অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সরকারি স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির একটি উদাহরণ তৈরি হবে।

প্রকল্পটির উদ্বোধনকালে প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সিরাজগঞ্জ জেলাকে সোলার বিদ্যুতের একটি ‘মডেল জেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলায় সোলার বিদ্যুতের যে কাঠামো তৈরি করা হলো, তা অন্যান্য জেলার জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে এবং সারা দেশে সোলার বিদ্যুতের বিপ্লব ঘটাতে সিরাজগঞ্জ মডেলের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যুৎ খাতের টেকসই উন্নয়নে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে রুফটপ সোলার প্রকল্পের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদকে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের আওতায় আনা সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজতর হবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গৃহীত এই উদ্যোগটি কেবল বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নয়, বরং এটি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে জেলার অন্যান্য সরকারি স্থাপনায় একই ধরণের প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর থেকে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির বহুমুখী ব্যবহারের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় এ ধরনের প্রকল্পের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া সরকারের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনার একটি অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ