শিক্ষাখাতের সংস্কারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর

শিক্ষাখাতের সংস্কারে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর

শিক্ষা ডেস্ক

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, বিগত সরকারের শাসনামলে দেশের অন্যান্য খাতের মতো শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই খাতের মানোন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

শনিবার সকালে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, গত কয়েক দশকে শিক্ষা খাতের গুণগত মান নিশ্চিত করার পরিবর্তে কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমান প্রজন্মের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে এবং এই খাতকে ঢেলে সাজানোই বর্তমান সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ‘এডুকেশন পলিসি কুমিল্লা কনসেপ্ট’ নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান এই আইনপ্রণেতা। তিনি বলেন, “আমি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা সরকারের কাছে তুলে ধরব। এছাড়া কুমিল্লায় খুব শীঘ্রই শিক্ষকদের নিয়ে একটি বড় ধরনের সমাবেশ আয়োজন করা হবে, যেখানে প্রাথমিক শিক্ষা খাতের বর্তমান চিত্র ও দাবিগুলো স্পষ্টভাবে উঠে আসবে।” তিনি জানান, এই সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে, যাতে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষকরা সরাসরি তাদের সমস্যা ও সুপারিশগুলো নীতিনির্ধারকদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেন।

প্রাথমিক শিক্ষকদের বঞ্চনা ও অবহেলার প্রসঙ্গ টেনে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা দীর্ঘকাল ধরে পেশাগত ও আর্থ-সামাজিক সমস্যার সম্মুখীন। তাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা হলে শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি মজবুত করা অসম্ভব। তিনি শিক্ষকদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, একজন দক্ষ শিক্ষকই শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করতে পারেন। নিজস্ব ছাত্রজীবনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিচর্যা পেলে যে কোনো শিক্ষার্থীই সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে সক্ষম।

শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি—বদলি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালকের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বদলি প্রক্রিয়াটি দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনের অধীনে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা কার্যকর হলে শিক্ষকদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন জহুরেন্নেসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামশেদ আহমেদ চৌধুরী। সভায় আদর্শ সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল পাঠদান পদ্ধতি নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষক নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার দাবি জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষাখাতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও গঠনমূলক নীতি প্রণয়ন করা গেলে প্রাথমিক পর্যায় থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার গুণগত মান পরিবর্তন সম্ভব। সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগ মাঠ পর্যায়ের শিক্ষকদের মনোবল বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই পরিবর্তন সাধনে কেবল নীতিনির্ধারণী পর্যায় নয়, বরং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন থাকা জরুরি।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ