আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে কিউবা রাষ্ট্রটিকে অত্যন্ত দ্রুত ‘দখল’ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফ্লোরিডার পাম বিচে আয়োজিত ফোরাম ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। যদিও বক্তব্যে তিনি স্বভাবসুলভ কৌতুক ও রসিকতার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন, তবে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্যকে ঘিরে ওয়াশিংটনসহ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একপর্যায়ে সাবেক মার্কিন কংগ্রেসম্যান ড্যান মিকার প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। মিকার জন্মস্থান কিউবা হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “তিনি (মিকা) এমন একটি জায়গা থেকে এসেছেন, যা আমরা খুব দ্রুত দখলে নিতে যাচ্ছি।” সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা উল্লেখ না করলেও তার এই বক্তব্যের ধরন ছিল অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও কৌতুকপূর্ণ।
সাবেক এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট কিউবার বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “কিউবার বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যা রয়েছে। আমি ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে পছন্দ করি। আগে হাতে থাকা একটি কাজ সম্পন্ন করি, তারপর অন্যটিতে হাত দেব।” তার এই বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর কিউবা নীতিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে অথবা দ্বীপ রাষ্ট্রটির ওপর চাপ বৃদ্ধির কৌশল গ্রহণ করছে।
সবচেয়ে বিতর্কিত ও চমকপ্রদ তথ্যটি আসে মার্কিন নৌ-শক্তির সক্ষমতা বর্ণনা করার সময়। ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমা থেকে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিশাল যুদ্ধজাহাজ, সম্ভবত ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরীকে কিউবার উপকূলে মোতায়েন করা হতে পারে। তিনি রসিকতার সুরে দাবি করেন, “আমাদের বিশাল এই রণতরী যদি কিউবার উপকূল থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে নোঙর করে, তবে সে দেশের কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের প্রতি তার কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন। এর আগে তার প্রথম মেয়াদে ওবামা প্রশাসনের নেওয়া অনেক উদার কিউবা নীতি বাতিল করেছিলেন এবং কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। এবারের মন্তব্যটি কেবল মৌখিক রসিকতা নাকি ভবিষ্যতে সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপের প্রচ্ছন্ন হুমকি, তা নিয়ে কূটনৈকি মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডায় অবস্থিত মার-এ-লাগো বাসভবনের নিকটবর্তী পাম বিচের এই অনুষ্ঠানে অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এখনো কিউবা সরকার কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাম্পের এই অনমনীয় ভঙ্গি ল্যাটিন আমেরিকার রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনরায় বৃদ্ধির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।


