জাপান সফরে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

জাপান সফরে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাত দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। শনিবার ভোরে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তিনি সফরসঙ্গীদের নিয়ে টোকিও’র পথে রওনা হন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে বিরোধীদলীয় নেতা জাপানের সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একাধিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। এই সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন জাতীয় সংসদের সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম।

জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, এই সফরটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ। জাপানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো এই সফরে প্রাধান্য পেতে পারে। সফর শেষে আগামী ৯ মে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের এই জাপান সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইতিবাচক দিক তুলে ধরতে সহায়ক হবে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর সংসদীয় রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের এই ধরনের বিদেশ সফর দলের কূটনৈতিক তৎপরতার একটি নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সফর থেকে প্রাপ্ত ফলাফল দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ এই নেতার বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জাপানের মতো একটি উন্নয়ন সহযোগী দেশের সঙ্গে বিরোধী শিবিরের এই যোগাযোগ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে নতুন কোনো বার্তা প্রদান করে কি না, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই সফরকে কেবল দ্বিপাক্ষিক ও সৌজন্যমূলক হিসেবে অভিহিত করা হলেও, এর রাজনৈতিক গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। শফিকুর রহমানের এই সফরের মাধ্যমে জাপানি বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক কাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে বিশদ আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ