রাষ্ট্রজুড়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তারে উদ্বেগ প্রকাশ মির্জা ফখরুলের

রাষ্ট্রজুড়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তারে উদ্বেগ প্রকাশ মির্জা ফখরুলের

জাতীয় ডেস্ক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান প্রশাসনের স্তরে স্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে চিত্র ফুটে উঠছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিগত সরকারের দীর্ঘকালীন শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নৈতিক ভিত্তি হারিয়েছে এবং দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শনিবার (২ মে) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়ামে জিয়া পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কাজের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী শাসনের নেতিবাচক প্রভাব বিদ্যমান। সমাজ ও রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এমন এক সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে যেখানে নৈতিকতার কোনো স্থান নেই। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলাই বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।”

সংবিধান সংস্কার এবং নির্বাচনের রূপরেখা নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে মন্ত্রী বিএনপির অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হতে হবে। বিশেষ করে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন এবং উচ্চকক্ষে ‘প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন’ (পিআর) বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তনের যে প্রস্তাবগুলো আসছে, সেগুলোর সঙ্গে বিএনপি একমত পোষণ করেনি।

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “বিএনপি দীর্ঘকাল ধরে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের কথা বলে আসছে। তবে সংস্কারের নাম দিয়ে কোনো গোষ্ঠী যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালায়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। বর্তমানে সংস্কার আন্দোলনের নামে যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে, তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করা।” এ সময় তিনি দেশের সার্বিক উন্নয়নে রাজনৈতিক দলসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন নথিপত্র ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, “জুলাই সনদের প্রতিটি প্রক্রিয়ায় আমাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তবে যেখানেই জনস্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, সেখানেই আমরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত প্রদান করেছি। আমরা অনেক ক্ষেত্রে স্বাক্ষর করলেও উচ্চকক্ষ বা নির্দিষ্ট কিছু সংস্কার প্রক্রিয়ায় দ্বিমত জানিয়েছি। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, সকল মৌলিক পরিবর্তন বা সংস্কার হতে হবে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে।”

স্মরণসভায় মন্ত্রী ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রতিকূল সময়েও যারা আদর্শিক লড়াইয়ে অবিচল ছিলেন, তাদের অবদান দেশ ও জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্য মূলত রাষ্ট্র সংস্কারে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেওয়ার একটি বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে নির্বাচিত সংসদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং তড়িঘড়ি কোনো মৌলিক পরিবর্তন না করার বিষয়ে বিএনপির কঠোর অবস্থান এই বক্তব্যের মাধ্যমে পুনর্নিশ্চিত হলো। একইসঙ্গে প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার এই অবস্থান আগামী দিনে শুদ্ধি অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ