জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা ও টেকসই পরিবহন অবকাঠামো বিনির্মাণে সমন্বিত উদ্যোগে জোর

জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা ও টেকসই পরিবহন অবকাঠামো বিনির্মাণে সমন্বিত উদ্যোগে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চালকের অদক্ষতা, অসচেতনতা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশের সড়ক, নৌ ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে সরকার নানামুখী টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যার আওতায় প্রায় ৬০ হাজার চালককে পেশাদার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

রোববার (১৭ মে) সকালে রাজবাড়ী পৌরসভার রজনীগন্ধা মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দৌলতদিয়া ঘাটে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক বাস দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬২ জনের মাঝে মোট ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়।

সাম্প্রতিক ফেরিঘাটের দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের বরাতে সরকারের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে জানানো হয়, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি স্থির অবস্থায় থাকার কথা থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটি ও ব্রেক ফেল করার কারণে সেটি অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে শুরু করে। তদন্তে চালকের অদক্ষতা এবং যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। দেশের সড়কগুলোতে প্রতি বছর সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, যা সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একই সড়কে গতি ও প্রকৃতির ভিন্নতাসম্পন্ন নানাবিধ যানবাহন চলাচল এবং জনসাধারণের অসচেতনতাকেও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশের ঘাট ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। প্রতি বছর নদীভাঙনের কারণে ফেরিঘাটগুলো বারবার স্থানান্তর করতে হয়, যার ফলে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হয় না। এই সক্ষমতার ঘাটতি ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে জনসাধারণের জন্য নিরাপদ সড়ক, নৌ ও রেলযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের বর্তমান নির্বাচিত সরকার নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের প্রতিনিধিরা রাজবাড়ী অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবহেলিত ঘাট ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকীকরণের দাবি জানান। এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সড়ক দুর্ঘটনা লাঘবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়, যা আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিআরটিএ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কেবল সরকারি উদ্যোগই নয়, বরং পরিবহন মালিক, চালক ও সাধারণ পথচারীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সমন্বিত সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ