বিনোদন ডেস্ক
দেশের অডিও-ভিজ্যুয়াল ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার ঘোষণা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল রূপান্তর, চলচ্চিত্র সংরক্ষণ এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
১৭ মে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকার সদর দপ্তরে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
চলচ্চিত্রকে একটি জাতির সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সমাজজীবনের নিখুঁত প্রতিচ্ছবি হিসেবে আখ্যায়িত করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এই আর্কাইভের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের চলচ্চিত্রের প্রকৃত ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বিবর্তন সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে অ্যানালগ ফরম্যাটে থাকা পুরোনো চলচ্চিত্রগুলোকে দ্রুত আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করার ওপর জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের চলচ্চিত্র নৃবিজ্ঞান ও ইতিহাস সংরক্ষণে ফিল্ম আর্কাইভের প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকার মূল্যায়ন করেন। তারা উল্লেখ করেন, সেলুলয়েডের ফিতা বা পুরোনো ট্র্যাকে সংরক্ষিত বহু কালজয়ী চলচ্চিত্র সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করা না গেলে জাতীয় ইতিহাসের একটি বড় অংশ হারিয়ে যাবে। এই প্রেক্ষাপটে আর্কাইভের আধুনিকীকরণ অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, কেবল চলচ্চিত্র সংরক্ষণ করলেই হবে না, বরং গবেষক ও সাধারণ চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এই আর্কাইভে সংরক্ষিত নথিপত্র এবং চলচ্চিত্রের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। চলচ্চিত্র নিয়ে উচ্চতর গবেষণা ও একাডেমিক চর্চা বাড়াতে একটি সমন্বিত সেল গঠনের প্রস্তাব করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ম. জাভেদ ইকবাল প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, চলচ্চিত্রের আধুনিক ডিজিটালাইজেশন ল্যাব স্থাপন এবং জনবলের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আলোচনা সভায় দেশের চলচ্চিত্র, নাট্যজগৎ ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, চলচ্চিত্র সমালোচক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। বক্তারা বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানান।


