ক্রীড়া বিভাগ
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৭৮ রানের জবাবে সফরকারী পাকিস্তান দ্বিতীয় সেশনে ২৩২ রানে অলআউট হয়। ফলে প্রথম ইনিংস শেষে ৪৬ রানের লিড অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এক প্রান্ত আগলে রেখে পাকিস্তানের তারকা ব্যাটসম্যান বাবর আজম প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের বোলারদের সুশৃঙ্খল আক্রমণের মুখে বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারেনি সফরকারীরা।
এর আগে বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে পাকিস্তান। তবে দিনের শুরুতেই পাকিস্তানি শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ। দিনের প্রথম চার ওভারের মধ্যেই তিনি সাজঘরে ফেরত পাঠান পাকিস্তানের দুই ওপেনার আবদুল্লাহ শফিক ও আজান আওয়াইসকে। অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করা তরুণ ব্যাটসম্যান আজান আজ মাত্র ১৩ রান যোগ করতে সক্ষম হন। তাসকিনের এই প্রাথমিক ধাক্কার পর পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ কিছুটা রক্ষণাত্মক রূপ ধারণ করে।
প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেওয়ার লক্ষ্যে অধিনায়ক শান মাসুদ এবং বাবর আজম মিলে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা চালান। এই জুটি বেশ দেখেশুনে খেলে স্কোরবোর্ড সচল রাখার চেষ্টা করলেও তা ৩৮ রানের বেশি দীর্ঘ হতে দেননি অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। কাভার অঞ্চল দিয়ে শট খেলতে গিয়ে শর্টে থাকা বদলি ফিল্ডার নাঈম হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ২১ রানে বিদায় নেন শান মাসুদ। ফলে ৭৯ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে তীব্র ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারী দল।
এক প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতন ঘটলেও অন্য প্রান্ত আগলে রেখে লড়াকু ইনিংস খেলেন বাবর আজম। বাউন্ডারি ও সিঙ্গেলসের মাধ্যমে দলের রান এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের ৩১তম টেস্ট অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। এই হাফসেঞ্চুরির মাধ্যমে বাবর আজম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ৩৯তম টেস্টে এটি ছিল ডব্লিউটিসিতে তাঁর ২০তম অর্ধশতক, যা তাঁকে স্টিভ স্মিথ ও ইংল্যান্ডের জ্যাক ক্রলির সঙ্গে যৌথভাবে ডব্লিউটিসি ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ অর্ধশতককারী ক্রিকেটারের মর্যাদায় বসিয়েছে। এই তালিকায় বর্তমানে ২২টি অর্ধশতক নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের জো রুট এবং ২৪টি অর্ধশতক নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছেন অস্ট্রেলিয়ার মারনাস লাবুশেন।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বাবর আজম ও আঘা সালমানের জুটি পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করে। তবে ৬৮ রানের মাথায় তরুণ গতিময় পেসার নাহিদ রানার বলে বাবর আজম আউট হলে পাকিস্তানের বড় সংগ্রহের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাহিদ রানা, যিনি ৬০ রান খরচায় ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে তাসকিন আহমেদ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ সফরকারীদের মিডল ও লোয়ার অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সেশনে ২৩২ রানে থামে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস।
সিলেটের উইকেটে দ্বিতীয় দিনের পিচ কন্ডিশন বিবেচনা করলে এই ৪৬ রানের লিড বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ম্যাচের বাকি দিনগুলোতে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন, যা মাথায় রেখে দ্বিতীয় ইনিংসে বড় লক্ষ্য দাঁড় করানোই এখন স্বাগতিকদের মূল চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।


