টানা তিন দফায় কমলো স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমল ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা

টানা তিন দফায় কমলো স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমল ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

স্থানীয় বাজারে খাঁটি স্বর্ণের (তেজাবি স্বর্ণ) সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে টানা তিন দফায় কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক সর্বশেষ তিন দফায় প্রতি ভরিতে সর্বমোট ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা হ্রাস করা হয়েছে। সবশেষ গত ২০ মে (বুধবার) বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানোর পর ২১ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে নতুন এই দাম কার্যকর রয়েছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৭ Tour ২৩১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে গত ১৬ মে বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল, যেখানে ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা হ্রাস করা হয়। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য ছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২৭ Scout ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের মূল্যে ঘন ঘন পরিবর্তন এসেছে। সর্বশেষ ১০টি মূল্য সমন্বয়ের মধ্যে ৭ বারই স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। চলতি বছর দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৬৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ বার মূল্য বৃদ্ধি এবং ৩১ বার হ্রাস করা হয়। এর আগে ২০১৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার বৃদ্ধি ও ২৯ বার কমানো হয়।

স্বর্ণের দাম পর্যায়ক্রমে হ্রাস পেলেও দেশের বাজারে রুপার মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৪৪১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছর রুপার দাম মোট ৩৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২১ বার বৃদ্ধি ও ১৮ বার হ্রাস পেয়েছে। ২০১৫ সালে রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ১০ বার বৃদ্ধি এবং ৩ বার দাম কমানো হয়।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় বাজারে খাঁটি স্বর্ণের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় মূল্যের এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা এবং স্থানীয় চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখতে বাজুস নিয়মিত এই মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে, যা ভোক্তা সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ